নিউজপোল ডেস্ক: যাঁকে বাঁচাতে গিয়ে ওলিদ আলির পরীক্ষা দেওয়া হয়নি, সেই শেখ নুরজামাল নার্সিংহোম থেকে কাঁথির উত্তরডিহি মুকন্দপুরের বাড়িতে ফিরেছেন। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। মঙ্গলবার ওলিদ দেখা করতে যান ওই বৃদ্ধের সঙ্গে। ওলিদের পরীক্ষা দিতে না পারার কথা জেনে অনুতপ্ত ৬৮ বছরের ওই বৃদ্ধ। ওলিদকে দেখে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন নুরজামাল। তিনি ওলিদের সার্বিক মঙ্গলকামনা করেন। নিউজপোলকে ওলিদ জানান, বৃদ্ধ প্রাণ বাঁচানোর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আমি তোমার ঋণ শোধ করতে পারব না। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, তুমি আরও বড় মানুষ হও। তুমি আমার আর এক সন্তান, নইলে নিজের ক্ষতি করে কেউ এভাবে এগিয়ে আসে!’ এছাড়া বৃদ্ধের পরিবারের লোকজন তাঁকে ধন্যবাদ জানান, যোগাযোগ রাখতে বলেন।

প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনায় জখম বৃদ্ধকে উদ্ধার করতে গিয়ে কলেজ সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় বসা হয়নি। সেই খবর সংবাদমাধ্যমে আসতেই পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশন (সিএসসি) থেকে ফোন পেলেন কাঁথির শ্রীরামপুরের যুবক ওলিদ আলি। পরীক্ষা কেন্দ্র পাঁশকুড়া বনমালী কলেজ থেকেও ওলিদ-কে জানানো হয়েছে, সিএসসি-র দফতরে দেখা করার কথা।

মঙ্গলবার সকালে সিএসসি এবং বনমালী কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে ফোন পান ওলিদ। তিনি নিউজপোলকে বলেন, ‘সিএসসি থেকে ফোন করে ২৭ জানুয়ারি ডাকা হয়েছে।’
সিএসসি-র চেয়ারম্যান দীপক কর জানান, ‘ওলিদকে ডেকে পাঠিয়েছি। ওলিদ এমন একটা কাজ করেছেন, উৎসাহ দিতে চাই। পরের বারের পরীক্ষার জন্য শুভেচ্ছাও জানাচ্ছি।’ বনমালী কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার রিপোর্টও চেয়েছেন চেয়ারম্যান। গত রবিবার ‘সেট’ পরীক্ষা দিতে বনমালী কলেজে যাচ্ছিলেন ওলিদ। মেচেদায় দুর্ঘটনায় আহত বৃদ্ধ নুরজামালের শুশ্রূষায় দেরি হয়ে যায়। দেরিতে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছনোয় নিয়ম মতো তাঁকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি