লোকসভায় মুলতুবি প্রস্তাব পেশ করল কংগ্রেস।

নিউজপোল ডেস্ক: সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুতেই এ দিন লাদাখে চিনের আগ্রাসন প্রসঙ্গে লোকসভায় মুলতুবি প্রস্তাব পেশ করল কংগ্রেস। সোমবার চিন নিয়ে লোকসভায় মুলতুবি প্রস্তাব পেশ করেন লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী ও দলের আর এক সাংসদ কে সুরেশ। এ দিন, অধিবেশনের শুরুতে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়-সহ সম্প্রতি প্রয়াত অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক ঘণ্টার জন্য লোকসভা মুলতুবি হয়ে যায়। করোনা আবহে এই প্রথম সংসদের অধিবেশন বসেছে সোমবার। কিন্তু তার আগে প্রথামাফিক কোনও সর্বদল বৈঠক করেননি স্পিকার ওম বিড়লা। দু’দশকে এই প্রথম তা হল না। যেমন হবে না প্রশ্নোত্তর পর্বও। তবে রবিবার বিজনেস অ্যাডভাইসরি কমিটির বৈঠকে সব দলের প্রতিনিধিরাই ছিলেন। সেখানে সংসদের অধিবেশনে কী কী আলোচনা হবে, তা নিয়ে কথা হয়।

অধিবেশন শুরুর আগেই প্রথামাফিক বক্তব্য পেশের সময় চিন প্রসঙ্গ তুলে আনেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, ‘আমাদের সেনারা প্রবল সাহস ও মনোবল নিয়ে দেশমাতৃকাকে রক্ষা করার জন্য সীমান্তে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কঠিন উচ্চতায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন তাঁরা। আর কয়েকদিনের মধ্যেই বরফ পড়তে শুরু করবে। একইরকমভাবে আমি আত্মবিশ্বাসী যে, সংসদও একসুরে এটাই বার্তা দেবে যে, তারা সীমান্ত রক্ষাকারী জওয়ানদের পাশেই দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই তার পালটা জবাব দেয় কংগ্রেসও। কংগ্রেস নেতা কপিল সিবাল বলেন, ‘দেশের প্রতিটি নাগরিক আমাদের জওয়ানদের পেছনে রয়েছে। আমরা তাঁদের কুর্নিশ করি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কাজের পেছনে ক’জন আছেন? সন্দেহ রয়েছে।’ যেহেতু এ বার প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকছে না, এই অবস্থায় বিরোধীরা কী ভাবে নিজেদের প্রশ্ন তুলে ধরবেন, সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে রবিবার লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার ডাকা বিএসি-র বৈঠকে সরব হন বিরোধী দলের নেতারা৷ সূত্রের খবর, এর পরেই স্থির হয়, লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষেই থাকবে জিরো আওয়ার৷ এর পাশাপাশি লোকসভা ও রাজ্যসভায় লিখিত প্রশ্ন করতে পারবেন সাংসদরা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের তরফে এর উত্তরও দেওয়া হবে লিখিত ভাবে৷ এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন ‘জনবিরোধী’ নীতির প্রসঙ্গ তুলে সরব হবে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস সহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি৷