ফাইল ছবি।

নিউজপোল ডেস্ক: সনিয়া গান্ধীকে লেখা ২৩ জনের বেশি নেতার ‘পত্রবোমা’ রাতারাতি যেন কংগ্রেসের ঘরোয়া রাজনীতি ওলটপালট করে দিয়েছে। যে কারণে আজ, সোমবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির জরুরি বৈঠক ডাকেন সনিয়া। তিনি স্পষ্ট জানিয়েদেন তিনি আর অন্তর্বর্তীকালীন সভানেত্রীর পদে থাকতে চান না। তিনি দলের নেতৃত্বের কাছে পরবর্তী সভাপতি নির্বাচনের দায়িত্ব তুলে দেন। তবে রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা কেউই কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্বে নিতে আগ্রহী নয় বলেই কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে।

গত লোকসভা ভোটে হারের ধাক্কায় সভাপতি পদে রাহুল গান্ধীর ইস্তফা এবং তাঁর বিকল্প বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতাদের ব্যর্থতা দেশের শতাব্দী প্রাচীন এই দলের শীর্ষ স্তরে এক শূন্যতা সৃষ্টি করেছিল। কিছুদিন ‘মস্তিষ্কহীন’ অবস্থায় চলার পরে সনিয়া গান্ধীকে অন্তর্বর্তী সভানেত্রী করে সেই যাত্রায় কোনও রকমে পরিস্থিতি ম্যানেজ করেছিলেন কংগ্রেসের ম্য়ানেজাররা। তার পরে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। নতুন স্থায়ী নেতা খোঁজার ক্ষেত্রে বিশেষ হেলদোল দেখা যায়নি। দলীয় নেতৃত্বের অনুরোধে শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব নিতে সম্মন হন সনিয়া গান্ধী। কিন্তু দলে সংস্কার ও পূর্ণ সময়ের নেতৃত্বের দাবি জানিয়ে সনিয়া গান্ধীকে লেখা ২০ জনের বেশি নেতার চিঠির জেরে পদত্যাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সনিয়া।

সনিয়া সরে দাঁড়ালে ফের রাহুলকেই সভাপতি পদে নিয়ে আসার দাবি কংগ্রেসের মধ্যে জোরালো হয়েছে। তবে সূত্রের খবর, এখনই ফের কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব নিতে নারাজ রাহুল। বরং বর্তমানে তিনি যে কাজ করছেন, অর্থাত্‍ বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণ শানাচ্ছেন, সেটাই করে যেতে চাইছেন রাহুল। অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কাও স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে দলীয় সভাপতি নয়, বরং জেনারেল সেক্রেটারির যে দায়িত্ব তিনি বর্তমানে সামলাচ্ছেন, সেই কাজই করার বিষয়ে তিনি আগ্রহী।

এ দিকে, দেশের শতাব্দী প্রাচীন দলের ব্যাটন আগামীদিনে কার হাতে যাবে তা নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই। কংগ্রেস নেতারাও এই ইস্যুতে দ্বিধাবিভক্ত। একাংশ চাইছেন পূর্ণ সময়ের জন্য দলের সভানেত্রীর দায়িত্ব সনিয়াই নিজের কাঁধে তুলে নিন। তা না হলে নিদেনপক্ষে গান্ধী পরিবারের কেউ কংগ্রেসের সভাপতির চেয়ারে বসুন। সূত্রের খবর, কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা এবং অধিকাংশ প্রদেশ সভাপতি গান্ধী পরিবারের উপরে আস্থা প্রকাশ করেছেন। এই তালিকায় আছেন পঞ্জাব, ছত্তিশগড় এবং রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী, দলের লোকসভার নেতা অধীর চৌধুরী, প্রাক্তন মন্ত্রী অশ্বিনী কুমার, সলমন খুরশিদ এবং কেকে তিওয়ারির মতো মুখ।

সূত্রের খবর সনিয়া এখনই পদত্যাগ না করলেও কংগ্রেসের পরবর্তী সভাপতি বেছে নেওয়ার জন্য দলীয় নেতৃত্বকে ডেটলাইন বেঁধে দিতে পারেন। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে কংগ্রেসে অভ্যন্তরে আমূল সংস্কারের দাবি জানান দলের শীর্ষ ২৩ নেতা। এই মর্মে তাঁরা অন্তর্বর্তী সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীকে একটি চিঠিও লেখেন। সেই চিঠিতে দলের নানা সংকটময় পরিস্থিতি তুলে ধরার পাশাপাশি পূর্ণ সময়ের নেতৃত্বেরও দাবি জানানো হয়েছে। সেই চিঠির ইতোমধ্যেই জবাব দিয়েছেন সনিয়া।

আর অন্য অংশ ‘পরিবারতন্ত্রে’র অবসান ঘটিয়ে গান্ধী পরিবারের বাইরের কোনও নেতাকে কংগ্রেসের কমান্ড তুলে দেওয়ার পক্ষে। এই অংশ মনে করে, যৌথ নেতৃত্বের মধ্যেই আছে ঝিমেয়ে পড়া দলকে ফের চাঙ্গা করার মন্ত্র। সংস্কারপন্থী নেতাদের সংখ্যাও যে নেহাত মন্দ না, তা সনিয়াকে লেখা ‘পত্রবোমা’ থেকেই পরিষ্কার। সূত্রের খবর, গুলাম নবি আজাদ, আনন্দ শর্মা, কপিল সিব্বাল, মুকুল ওয়াসনিক, মণীশ তিওয়ারি, শশী থারুর এবং হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপিন্দর সিং হুডার নাম আছে সংস্কারপন্থীদের তালিকায়। অনেকে আবার তরুণ নেতা মুকুল ওয়াসনিককে পরবর্তী কংগ্রেস সভাপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রাখছেন।