নিউজপোল ডেস্ক: পাকিস্তানের দখল করা গিলগিট এবং বালুচিস্তানে প্রাকৃতিক সম্পদকে লুঠ করার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে চীনের খনন কোম্পানিকে। আর এই বরাত ঘিরেই বিতর্ক দাঁনা বেঁধেছে। ভারতের অভিযোগ, আন্তজার্তিক আইন লংঘন করেছে পাকিস্তান। এরই সঙ্গে পাকিস্তান ডিয়ামর ডিভিশনে বৃহৎ আকারে বাঁধ নির্মাণের জন্য চীনের সঙ্গে মউ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। অথচ যে অঞ্চলে এই বাঁধ নির্মাণের জন্য চুক্তি করা হয়েছে, ভারত দাবি করে আসছে ওই জায়গা আইনত ভারতের।

চীনকে সোনা, ইউরেনিয়াম, মোলিবডেনম সহ একাধিক প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠের জন্য ইমরান খানের সরকার ২,০০০ অধিক লিজ দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে চীনের খনন কোম্পানিগুলোকে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বরাত দেওয়ার সময়ে পাক সরকার পরিবেশে সংক্রান্ত ছাড়পত্রকে এড়িয়ে গিয়ে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে।

গিলগিট বালুচিস্তানের নির্বাসিত নেতা তথা ইউনাইটেড কাশ্মীর পিপলস ন্যাশনাল পার্টি (ইউকেপিএনপি) মুখ্য মুখপত্র আজিজ জানিয়েছেন,’ সেপ্টেম্বর মাসে জেনেভাতে রাষ্টপুঞ্জের সম্মেলন রয়েছে। এবং ওই সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করার চক্রান্তের পর্দাফাস করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।’

পাকিস্তানি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৫৭ অনুসারে নির্বাসিত নেতা আজিজ অভিযোগ তুলে বলেছেন, ইসলামাবাদ সরকারের জিবি অঞ্চলে প্রাকৃতিক সম্পদকে লুঠ করার কোনোও অধিকার নেই। নির্বাসিত ওই নেতা আরোও অভিযোগ তুলে বলেছেন,’এখানে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখানো হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম এখানে খবর করতে পারে না। জিবি অঞ্চলে প্রতিবাদীদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যখন কোন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করা যাচ্ছে না, সেই সুযোগে প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ চলছে। পাকিস্তান চীনের হাতের পুতুল হয়ে গিয়েছে।’ এখানেই শেষ নয় অভিযোগের পালা। নির্বাসিত নেতা আজিজ বলেছেন, ‘স্থানীয় লোকদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া হয়না। স্থানীয় মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত করা হয়না। জিবি অঞ্চলে এইভাবে চীনকে উপকৃত করার প্রচেষ্টা আন্তজার্তিক আইন বিরোধী।’

প্রসঙ্গত গিলগিট, বালুচিস্তান, ডিয়ামরে সংবাদমাধ্যমের ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে চীনের ফার্ম এবং পাক সেনাবাহিনীর মধ্যে ৪৪২ বিলিয়নের জয়েন্ট ভেঞ্চার স্বাক্ষরিত হয়েছে ডিয়ামর ভাষা বাঁধ নির্মাণের জন্য। গিলগিট বালুচিস্তানের প্রাকৃতিক সসম্পদ ব্যবহার করে পাকিস্তান ৪৫,০০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। জিবি অঞ্চলে স্থানীয় সরকার থাকলেও, এই সরকারের রিমোট কন্ট্রোল ইসলামাবাদ প্রশাসনের হাতে।