‌আগামী ৩ দিন কোচবিহার জেলায় কোনও রাজনীতিকই পা রাখতে পারবেন না। চতুর্থ দফার নির্বাচনে শীতলকুচিতে সাধারণ ভোটারের উপর কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি চালানোর ঘটনার পর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করল নির্বাচন কমিশন। শনিবারের ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, সূত্রের খবর, গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিন জন। কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, আগামী ১৭ এপ্রিল পঞ্চম দফার নির্বাচনের ৭২ ঘন্টা আগে প্রচার শেষ করতে হবে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে।
শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি চালানোর ঘটনার তীব্র নিন্দাকে করে রবিবার ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, নির্বাচনের কমিশনের এই নিষেধাজ্ঞা জারির পর তিনি কী করবেন। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় অবশ্য জানিয়েছেন, দলনেত্রী এখন উত্তরবঙ্গেই রয়েছেন। তিনি কী করবেন, সেই সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নেবেন। যশবন্ত সিনহা বলেন, মমতাকে আটকাতেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কমিশন। ভুলে গেলে চলবে না তিনি এখনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এতেই পরিষ্কার, কমিশন নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করছে না।
প্রথম তিন দফার নির্বাচনের কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা, নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। কেন্দ্রীয় বাহিনী বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে মমতাকে নোটিসও পাঠিয়েছে কমিশন। তার পরই ঘটে গেল এতবড় ঘটনা। তৃণমূলের দাবি, বিনা প্ররোচনায় সাধারণ মানু্ষের উপর গুলি চালানো হয়েছে। গোটা ঘটনায় বিশেষ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে কমিশনকে যে রিপোর্ট দিয়েছেন, তাতে তৃণমূলের দাবি খারিজ করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, তৃণমূল–বিজেপির মধ্যে সঙ্ঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। গ্রামবাসীরা সিএপিএফের জওয়ানদের ঘিরে ফেলে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।