নিউজপোল ডেস্ক:‌ পরিবারের ছয় সদস্যকে তো খুন করেই ছিল। তাছাড়াও আরও দুই শিশুকে খুন করার ছক কষেছিল জলি শাজু। বাকিদের মতোই খাবারে সায়ানাইড মিশিয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি। তদন্তে নেমে কেরলের সিরিয়াল কিলার সম্পর্কে এই তথ্যই জানল সিট।
বিশেষ তদন্তকারী দল, সিট–এর নেতৃত্বে রয়েছেন কোঝিকোড়ের এসপি কে জি সিমোন। তিনি জানালেন, ‘‌বাকিদের মতোই দু’‌টি শিশুকেও খুনের চেষ্টা করেছিল জলি শাজু। তদন্তে নেমে আরও কিছু অদ্ভুত ঘটনার কথা জানা গেছে। সেসবের পিছনে জলির হাত রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে’‌। এসপি সিমন আরও জানান, সায়ানাইড খাওয়ানোর পর শিশু দু’‌টিরও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। কোনওমতে তারা রক্ষা পায়। থমাস পরিবারের কয়েক জন ঘনিষ্ঠও একই অসুস্থতার শিকার হয়েছিলেন। তাঁদেরও জলি খুন করতে চেয়েছিল কিনা, জানা যায়নি।
জলিকে জেরার পর গ্রেফতার করা হয়েছে তার দুই পরিচিত এম ম্যাথিউ এবং প্রাজু কুমারকে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, গয়না তৈরির কারখানার কর্মী প্রাজু সায়ানাইড পৌঁছে দিত ম্যাথিউয়ের কাছে। ম্যাথিউয়ের কাছ থেকে তা পেত জলি। পুলিশের দাবি, ছ’জন ছাড়া নিজের ননদকেও সায়ানাইড মেশানো খাবার খাইয়েছিল জলি। কিন্তু তিনি সেই খাবার খুব কম পরিমাণে খান। খেয়েই অসুস্থ হয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা শুরু হয়। সে কারণে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান ননদ রেনজি। এর পরেই সাবধান হয়ে যায় জলি। সতর্ক হয় পরিবারের বাকি সদস্যরা। তাই শিশু দু’‌টি প্রাণে বেঁচে যায়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ২০০২ সালে প্রথম খুনটা করে জলি। নিজের শাশুড়ি আন্নাম্মা থমাসকে। তিনি ছিলেন অবসর প্রাপ্ত শিক্ষিকা। তাঁকে সায়ানাইড মেশানো খাবার খাইয়ে খুন করে জলি। কিন্তু শাশুড়ির মৃত্যু স্বাভাবিক বলে ভেবেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। এর পর জলির টার্গেট ছিল শ্বশুর টম। ২০০৮ সালে মারা যান টম। তিন বছরের মাথায় মারা যান স্বামী রয়। এই প্রথম বিষের অস্তিত্ব মেলে। রয়ের মত্যুর পর একটু সন্দেহ হয়েছিল পরিবারের সদস্যদের। দেহের ময়নাতদন্ত হয়। তাতে রয়ের শরীরে সায়ানাইড মেলে। কিন্তু সেই সময় পুলিশ তদন্ত করেও কোনও কিনারা করতে পারেনি। ফলে আড়ালে থেকে গিয়েছিল খুনি।
স্বামী রয়ের মৃত্যুর পর তাঁর খুড়তুতো ভাই সাজুকে বিয়ে করে জলি। ইতিমধ্যে একই ভাবে আকস্মিক মৃত্যু হয় রয়ের মামার। তা ছাড়াও সাজুকে জলির বিয়ে করার কিছু দিনের মধ্যেই মৃত্যু হয় সাজুর প্রাক্তন স্ত্রী সিলি এবং তাঁদের মেয়ে আলপাইনের। সেটা ২০১৬ সাল। কিন্তু কোনও ক্ষেত্রেই সন্দেহজনক কিছু মনে হয়নি পরিবারের বাকি সদস্যদের। তবে পরিবারে পর পর মৃত্যুতে সন্দেহ হয় এক তুতো ভাইয়ের। তাঁর অভিযোগেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং ধীরে ধীরে সামনে আসতে থাকে একের পর এক খুনের তথ্য। সিট-এর তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রতিটি মৃত্যুর ক্ষেত্রেই উপস্থিত ছিল জলি। তবে জলিকে এখনও পর্যন্ত স্বামী রয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ৫ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয়েছে। কারণ একমাত্র রয়ের শরীরে বিষের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। পুলিশ বাকিদের দেহ কবর থেকে তোলার ব্যবস্থা করেছে। ওই দেহগুলির ময়না তদন্ত করানো হবে বলে জানিয়েছে সিট।
কেন পরপর এতজনকে খুন করে জলি‌?‌ পুলিশের প্রথমে মনে হয় সম্পত্তির লোভে এসব করেছে ৪৭ বছরের জলি। পরে সেই তত্ত্ব নাকচ করে পুলিশ নিজেই। এখন তার এই খুনের মোটিভ খুঁজছে পুলিশ।