নিউজপোল ডেস্ক:‌ এককালে দেশের হয়ে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছিলেন। দেশ কবেই ভুলে গেছে তাঁকে। তাই তিনিও আর মনে রাখতে চাননি সেই সোনালি অতীত। ট্যাক্সি চালিয়েছেন, মজুরের কাজ করেছেন। শেষ পর্যন্ত সেই সোনার পদকই বেচতে বাধ্য হয়েছেন। তা দিয়ে নিজের পেটে চালাচ্ছেন অ্যাথলিট সারওয়ান সিং।
১৯৫৪ সালে এশিয়ান গেমসে ১১০ মিটার হার্ডল রেসে সোনা জিতেছিলেন। ১৪.‌৭ সেকেন্ডে শেষ করেছিলেন দৌড়। বলা ভাল স্বপ্নের দৌড়। আজ, ৯০ বছর বয়সেও পরিষ্কার মনে করতে পারেন সারওয়ান সিং। কিন্তু দেশ তাঁকে মনে রাখেনি। ১৯৭০ সালে বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। তার পরেই শুরু কঠিন সময়ের। আম্বালায় ২০ বছর ট্যাক্সি চালিয়েছেন। আত্মীয়–স্বজন কেউ সম্পর্ক রাখেননি। বয়সের ভারে এক সময় ট্যাক্সি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। ৭০ বছর বয়সে তাঁকে পেনশন দেওয়ার ব্যবস্থা করে সরকার। তাও মাত্র ১৫০০ টাকা। সেই টাকা দিয়ে পেট চালানো অসম্ভব। অগত্যা তাই দিনমজুরের কাজ নেন। সময় সময় ভিক্ষাও করেছেন সারওয়ান। নয়তো যে দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। শেষ পর্যন্ত একদিন সেই সোনার পদক বিক্রি করে দেন। সেই দিয়ে অন্তত কিছুদিন তো পেট চলবে।
সারওয়ান একা নন। তাঁর মতো বহু অ্যাথলিটই চরম অর্থকষ্টে ভুগছেন। কিন্তু সারওয়ানের মতো কাউকে ভিক্ষা করতে হয়েছে কিনা, জানা নেই। ক্রিকেটের জন্য তো অনেক খরচই হল। দেশের অন্য ক্রীড়াক্ষেত্রে তার একাংশও কি হতে পারে না‌!‌ যদি হয়, তাহলে হয়তো সারওয়ানদের ভিক্ষা করতে হবে না।