নিউজপোল ডেস্ক: ক্ষমতায় এসে দেশে ২০ কোটি কর্মসংস্থান আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। অথচ তাঁর নিজের রাজ্যের বেহাল দশা। চতুর্থ শ্রেণি পাশ যোগ্যতার সরকারি পিওন, আর্দালি পদের জন্য লাইন লাগিয়েছেন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করা ছাত্ররাও। এমন ঘটনা এর আগে উত্তরপ্রদেশেও ঘটেছিল, কিন্তু সংখ্যার নিরিখে যোগীর রাজ্যকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে গুজরাট।

গুজরাটে এমন নিম্নস্তরের ১,১৪৯টি খালি পদের জন্য একটি প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল অতি সম্প্রতি। সেই পরীক্ষায় বসেন মোট ১,৫৯,২৭৮ জন চাকুরিপ্রার্থী। এঁদের মধ্যে যাঁরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সাতজন চিকিৎসক, ৪৫০ জন ইঞ্জিনিয়ার এবং ৫৪৩ জন স্নাতকোত্তর পাশ ছাত্র-ছাত্রী। ১৭ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৭ জন মাসিক ৩০,০০০ টাকা বেতনে কাজে ঢুকেছেন। কেন্দ্রীয় পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষার জন্য চলা কোচিং ক্লাসের মালিকরাও অনেকে এই পরীক্ষায় বসেছিলেন। কী ধরনের প্রশ্নপত্র আসে এই পিওন-আর্দালির পরীক্ষায় তা জানার জন্যই পরীক্ষায় বসা বলে জানা গেছে। তাঁরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও চাকরি নেননি।

এমন নিম্নস্তরের পদের জন্য কেন উচ্চশিক্ষিতদের হুড়োহুড়ি, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অনেকেই বলছেন, কর্মহীন হয়ে চুপচাপ বাড়ি বসে থাকার চেয়ে পাকা সরকারি চাকরি অনেক ভাল। গত বছর গ্রামস্তরে রাজস্ব অফিসার এবং ক্লার্কের ২,৭৫৩টি খালি পদের জন্য আবেদন পত্র জমা দিয়েছিলেন ১,০০,০০০ প্রার্থী। এবার চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা তো বেড়েইছে, সেই সঙ্গে চতুর্থ শ্রেণি পাশ পদের জন্য ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এবং অন্যান্য শাখায় উচ্চশিক্ষিতদের ভিড় সত্যিই আশ্চর্যের। তাও মোদীর ‘আপন দেশে’।