নিউজপোল ডেস্ক: ঘুরতে গেলে কর্মসূত্রে বাইরে গেলে অনেকেই ‘ওয়ো’ নামক অ্যাপের মাধ্যমে হোটেল বুক করেন। সেরকমই একটি হোটেল হল বিপত্তি। আলাদা ধর্মের হওয়ায় বুকিং থাকা সত্ত্বেও যুগলকে থাকতে দেওয়া হল না হোটেলে। এই ঘটনা রাজস্থানের জয়পুরের। ওয়ো অ্যাপের অন্তর্ভুক্ত হোটেলটির নাম সিলভারকি। বুকিং করেছিলেন এক ৩১ বছরের মুসলিম যুবক। তাঁর সঙ্গেই থাকার কথা ছিল এক হিন্দু যুবতীর। অভিযোগ, দু’জন আলাদা ধর্মের হওয়ায় থাকতে দেয়নি হোটেল কর্তৃপক্ষ।

মুসলিম যুবকটি পেশায় সহকারী অধ্যাপক এবং তিনি কর্মসূত্রে উদয়পুরে থাকেন। গত শনিবার সকালে হোটেলে পৌঁছন তিনি। দিল্লি থেকে তাঁর বান্ধবীর আরও খানিকক্ষণ পর পৌঁছনোর কথা ছিল। যুবকটি জানিয়েছেন, ‘আমি সকাল ৮-৯টার দিকে হোটেলে পৌঁছই। রিসেপশনিস্ট আমায় আমার সঙ্গীর পরিচয়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আমি তাঁর নাম ধাম জানাতেই আমায় এক অদ্ভুত সমস্যার কথা জানানো হয়। বলা হয়, আপনারা আলাদা ধর্মের তাই আপনাদের চেক-ইন করতে দিতে পারব না।’ যুবকটি এরপর বলার চেষ্টা করেন, যে হোটেলটির ওয়েবসাইটে অথবা অ্যাপের কোথাও এমন ধরনের শর্তের কথা লেখা ছিল না। তাঁদের থাকতে না দিলে দেশের সংবিধানকেই অবমাননা করা হবে। প্রত্যুত্তরে হোটেলের কর্মীটি জানান, তাঁদের এমন নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

ঘটনায় স্পষ্টত হতবাক তরুণীটি বলছেন, ‘আমরা একবিংশ শতকে বাস করছি তাও জানি না কেন ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করা হচ্ছে।’ তিনি বলছেন, তাঁরা দুজনে হিন্দু এবং শিখ হলেও হয়তো থাকতে দেওয়া হত, কিন্তু মুসলিম হওয়াতেই এমনটা করা হল। এদিকে জয়পুরের পুলিশ কমিশনার আনন্দ শ্রীবাস্তব পুলিশের তরফ থেকে হোটেলগুলিতে এমন ধরনের কোনও লিখিত বা মৌখিক নির্দেশনামা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। ওয়ো অ্যাপ থেকে জানানো হয়েছে, ‘গ্রাহককে অসুবিধা প্রদানকারী ম্যানেজারের পদক্ষেপ নিয়ে আমরা একটা তদন্ত শুরু করেছি। আমরা এই দুর্ভাগ্যজনক অভিজ্ঞতার জন্য বিনীতভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।’