নিউজপোল ডেস্ক:‌ হোয়্যাটসঅ্যাপ, ফেসবুকের জন্য ছেলেমেয়েরা নাকি গোল্লায় যাচ্ছে!‌ নিজের দেশ, ঐতিহ্য মনে রেখেছে, এ রকম ছেলে–মেয়ে দুর্লভ। সে জন্য ‘‌সংস্কারি’‌ সন্তান প্রসবের উপায় প্রচার শুরু করল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ। তাদের কথামতো গর্ভসংস্কার করালেই মিলবে হাতেনাতে ফল। শুধু রুচিশীল নয়, বুদ্ধিমান হবে সন্তান।


গর্ভ সংস্কারের ভিডিও ইতিমধ্যে উত্তরপ্রদেশে সঙ্ঘের দফতরে প্রচার করা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে চার বছরের ক্রিয়া আর আট বছরের গড়গড়িয়ে সংস্কৃত মন্ত্র আওড়ে চলেছে। তাদের মা জানাচ্ছেন, গর্ভ সংস্কার করানোর ফলেই শিশু দু’‌টি বুদ্ধিমান এবং রুচিশীল হয়েছে। সঙ্ঘ নেতা মহেশ শর্মা জানালেন, ‘‌আজকের প্রজন্ম একেবারেই সংস্কারি নয়। সাম্প্রতিক কিছু ফেসবুক এবং হোয়্যাটসঅ্যাপ ভিডিওতে স্পষ্ট যে তারা আমাদের দেশ, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য সম্পর্কে কিছুই জানে না। ঠিকঠাক শিক্ষা পায়নি বলেই এই অবস্থা। সঙ্ঘ পরিস্থিতিটা পাল্টানোর চেষ্টা করছে’‌। তাঁর দাবি, বৈদিক যুগ থেকেই আমাদের দেশে এই ‘‌বিজ্ঞান’‌ ছিল, যা মহিলাদের রুচিশীল সন্তানের জন্ম দিতে সাহায্য করে। পুরাণ, বেদে এমন অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে মুনি–ঋষিদের আশীর্বাদ নিয়ে বিদ্যান, বুদ্ধিমান সন্তানের জন্ম দিয়েছেন মায়েরা। মেরঠে ইতিমধ্যে এজন্য একটি প্রতিষ্ঠানও খুলে ফেলেছেন আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ডা.‌ নীরজ সিঙ্ঘল এবং সঙ্ঘ নেতা বিনোদ ভারতী। নাম ‌‘বেদান্ত গ‌র্ভ বিজ্ঞান এবং সংস্কার কেন্দ্র’‌। গুজরাটে এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তাঁরা।
তা কীভাবে বুদ্ধিমান এবং ‘‌সংস্কারি’‌ সন্তান প্রসব করবেন মহিলারা?‌ ডা.‌ নীরজ সিঙ্ঘল জানালেন, সন্তান ধারণের আগে থেকেই কয়েকটি পদক্ষেপ করতে হবে। গর্ভধারণের পরেও সেগুলো বন্ধ করা যাবে না। যেমন নিয়মিত যোগ এবং সাত্ত্বিক আহার। গর্ভধারণের আগে থেকে সন্তান জন্ম দেওয়া পর্যন্ত মহিলাদের নিয়মিত যোগ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ডায়েট চার্ট মেনে খাওয়াদাওয়া করতে হবে। আর বেশ কয়েকটি যজ্ঞও করাতে হবে। পাশাপাশি রোজ ‘‌হনুমান চল্লিশা’‌ আর ‘‌দুর্গা চল্লিশা’‌ পড়তে হবে। দেশের বীর সন্তান শিবাজি, রাণা প্রতাপের জীবনী শুনতে হবে। তাহলেই নাকি গর্ভের সন্তান বুদ্ধিমান হবে। ভারতীয় ঐতিহ্য, সংস্কার মেনে চলবে।