নিউজপোল ডেস্ক: বিয়ের দিন ঠিক ছিল আগে থেকেই। কেনা হয়ে গেছিল বিয়ের বেনারসি। নেমন্তন্নের পালাও শেষ। কিন্তু শেষমুহূর্তে বিয়ে করা থেকে পিছিয়ে গেলেন পাত্র। কেন? কারণ দেশের আজ তাঁকে দরকার। এটা কোনও সিনেমার গল্প নয়। এটা পুরুলিয়া জেলার মৌলাডাঙা গ্রামের রাজেশ গোপ এবং তাঁর হবু স্ত্রী কৃষ্ণার গল্প।

কৃষকসন্তান রাজেশের ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগদানের। গত বছর পরীক্ষায় পাশ করে রাজেশের প্রথম পোস্টিং হয় পাঠানকোটে। চাকরি পাওয়ার পরেই বাড়ির লোকের পছন্দ অনুসারে তাঁর বিয়ে ঠিক হয় লাউলাড়া গ্রামের কৃষ্ণার সঙ্গে। কৃষ্ণা স্নাতক স্তরে ভূগোলের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। গত একবছর ধরে কথাবার্তা চলার পর ১২ মার্চ ২০১৯ তাঁদের বিয়ে ঠিক হয়। দুই পরিবারই মেতে ওঠে বিয়ের ব্যবস্থাপনায়। কেনাকাটা শুরু হয় জোরকদমে। রাজেশের ছুটিও মঞ্জুর হয়ে যায়। কথা ছিল, ১০ তারিখ কলকাতা পৌঁছেই পুরুলিয়ার উদ্দেশে রওনা হবেন রাজেশ, বিয়ের দু’দিন আগে।

এর মধ্যেই ঘটে পুলওয়ামার নির্মম হামলা। সীমান্তে খণ্ডযুদ্ধ আরম্ভ হওয়ার দরুন রাজেশ সহ সমস্ত জওয়ানদের ছুটি খারিজ হয়ে যায়। খবর পেয়েই প্রথমে বাড়িতে জানান রাজেশ, এই মুহূর্তে তিনি বিয়ে করতে আসতে পারবেন না। শ্বশুরবাড়িতেও একই কথা জানান তিনি। তাঁরা একটু চিন্তিত হয়ে পড়ায় রাজেশ সোজাসুজি কৃষ্ণাকেই জানান পরিস্থিতির কথা। যোগ্য সঙ্গিনীর মতোই কৃষ্ণা রাজেশকে বলেন, বিয়ে পরেও করা যাবে। কিন্তু এই মুহূর্তে দেশের প্রয়োজনে সীমান্তে দায়িত্বে ফেরাটাই তাঁর কর্তব্য। বিয়ের ব্যবস্থাপনা হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তারপরেও পিছিয়ে গেছে তারিখ। দুই পরিবারই অত্যন্ত গর্বিত রাজেশের কর্তব্যনিষ্ঠায়। তাঁর পাশে অবিচল থেকে নীরবে সমর্থন জানিয়েছেন কৃষ্ণা। সত্যিকারের ভালবাসা বোধহয় এমনই হয়।