বিভিন্ন দেশে ভ্যাকসিন কেনার হিড়িক পড়ে গেলেও, নেই পর্যাপ্ত সিরিঞ্জের ব্যবস্থা। আর এই সংকট থেকেই বিশ্বকে উদ্ধারের অঙ্গীকার দিচ্ছে ভারতের একটি সংস্থা-হিন্দুস্থান সিরিঞ্জেস এন্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেস।

বাজারে প্রাপ্ত যে কোনো সিরিঞ্জের মাধ্যমে সম্ভব হচ্ছে না কোভিডের টিকাকরণ। সিরিঞ্জের অভাবে টিকাকরণের গতি হ্রাস পেয়েছে, জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। দেশের অভ্যন্তরে সিরিঞ্জ সংকটের কারণে রপ্তানি বন্ধ করেছে ব্রাজিলও, জাপানেও। মাস ঘুরলে কয়েক লক্ষ ডোজের ভ্যাকসিন স্রেফ ফেলে দিতে হবে সিরিঞ্জের অভাবে।

পৃথিবীর অন্যতম সিরিঞ্জ-প্রস্তুতকারক সংস্থা হিন্দুস্থান সিরিঞ্জেসের কাছে গত নভেম্বর মাসেই দ্বারস্থ হয়েছিল ইউনিসেফ। তখনও সংকট পৌঁছোয়নি এই পর্যায়ে। মেল করে আগাম জানানো হয়েছিল সিরিঞ্জের চাহিদার কথা। আর তার পরেই দ্রুত বিনিয়োগ বাড়ায় ভারতীয় কোম্পানিটি। যার পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি মার্কিন ডলার। জার্মানি, ইতালি এবং জাপান থেকে অর্ডার দেওয়া হয় অত্যাধুনিক সিরিঞ্জ তৈরি করার যন্ত্রের। নিয়োগ করা হয় বাড়তি ৫০০ কর্মী।

বর্তমানে দিল্লি শহরের বাইরে ১১ একর জমির ওপর বানানো সেই কারখানাই ভরসা যোগাচ্ছে সারা পৃথিবীকে। প্রতি মিনিটে সেখানে তৈরি হচ্ছে ৫৯০০ সংখ্যক সিরিঞ্জ। রবিবার ও অন্যান্য ছুটির দিনেও কাজ চলছে পুরোদমে। এই গতিতে এক বছরের মধ্যেই ২৫০ কোটি সিরিঞ্জ তৈরি করতে সক্ষম হবে হিন্দুস্থান সিরিঞ্জেস। তবে তাঁদের লক্ষ্য জুলাইয়ের মধ্যেই ৩০০ কোটি সিরিঞ্জের যোগান দেওয়া।

ইতিমধ্যেই জাপানে পাঠান হয়েছে দেড় কোটি সিরিঞ্জ। ভারতের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৪০ কোটি। ব্রাজিল এবং ইউনিসেফের জন্য বন্দোবস্ত করা হচ্ছে ২৪ কোটি সিরিঞ্জের।