মরিশাস।

নিউজপোল ডেস্ক: জুলাইয়ের শেষে মরিশাসের কাছে প্রবাল দ্বীপে আচমকা ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয় জাপানের এক তেলভর্তি জাহাজ। সেই জাহাজ থেকে হু হু করে তেল বেরিয়ে সমুদ্রের জল কালো হয়ে গিয়েছে। যার ফলে ব্যপক ক্ষতির মুখে পড়েছে সামদ্রিক জীববৈচিত্র। এরই মধ্যে বিষাক্ত সমুদ্রের জলের কারণে প্রায় ৪০টির বেশি ডলফিনের মৃত দেহ উদ্ধার হয়েছে। একই সঙ্গে মারা গিয়েছে তিনটি তিমি মাছও। প্রাণ হারিয়ে অন্য বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণি। জাহাজ থেকে তেল বেরিয়ে সমুদ্রের জল বিষাক্ত হয়ে পড়ায় বেশ কয়েকদিন ধরেই মরিশাসের সমুদ্রে উপকূলে অসংখ্য কচ্ছপ, মাছ,কাঁকড়ার দেহ ভাসতে দেখা যায়। চলতি সপ্তাহে মরিশাসের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকার স্থানীয়রা দেখতে পান, সৈকতে ভেসে উঠেছে অসংখ্য ডলফিন। তাদের মধ্যে কেউ মারা গিয়েছে, কোনওটা মৃত্যুর পথযাত্রী।

তেলভর্তি জাহাজ এমভি ওয়াকাশি থেকে প্রায় চার হাজার টল তেল মিশে গিয়েছে সমুদ্রে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১৪ মাইল পর্যন্ত তেল ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই মুহুর্ত তেল না সরালে, সমুদ্র বিপন্ন হয়ে পড়বে। ভবিষ্যতে সামদ্রিক প্রাণির মৃত্যু মিছিল লেগে থাকবে। শুক্রবার বিশাল সংখ্যক ডলফিনের মৃত্যুই তার প্রমাণ। সামনের দিনগুলি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্বের তাবড় তাবড় পরিবেশবিদরা। শুধু প্রাণী ও জলজ উদ্ভিদই নয়, প্রবাল প্রাচীরও ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর জেরে বহু বিপন্ন প্রজাতির সামদ্রিক প্রাণীর বিলুপ্তিও ঘটতে পারে।

মরিশাস।

শনিবারই রয়টার্সে একটি মর্মান্তিক ভিডিয়ো প্রকাশিত হয়। যেখানে দেখা গিয়েছে, একটি মা ডলফিন তার বাচ্চাকে বাঁচাতে তীব্র কষ্ট করে যাচ্ছে। মরিশাসের ওই এলাকা প্রচুর ডলফিন একসঙ্গে থাকতে দেখা যায়। প্রায় ২০০-র বেশি ডলফিনের উপস্থিতি রয়েছে। এক মত্‍স্যজীবীর কথায়, বোটে করে সমুদ্রের যাওয়ার সময় একটি মা ডলফিন তার বাচ্চাকে ডলফিনের দলের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিষাক্ত জলের কারণে বাচ্চা ডলফিনটি কিছুতেই সাঁতার কাটতে পারছে না। মা ডলফিন দলে যোগ না দিয়ে নিরন্তরভাবে সন্তানের পাশে থেকে গিয়েছে। অনেক লড়াই করেও সন্তানকে বাঁচাতে পারেনি সে। পরে অন্য এক মত্‍স্যজীবীর দল জানিয়েছে, ওই মা ডলফিনটিও বেশ কয়েকঘন্টা পর বিষাক্ত তেলে শ্বাস নিতে না পেরে মারা গিয়েছে।