নিউজপোল ডেস্ক:‌ গান্ধীর ১৫০তম জন্মদিনে দেশে প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে বলে স্থির করেছিল মোদী সরকার। কিন্তু আর্থিক মন্দার কারণে তা পারেনি। এবার দেশকে আরও একটু পরিবেশ–বান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে এগিয়ে এল পুজো কমিটিগুলো। এর মধ্যে অগ্রগণ্য রাজধানী দিল্লির পুজো।
দিল্লির আরাধনা পার্কের দুর্গার প্রতিমা তৈরি হয়েছে বাতিল জিনিস দিয়ে। বাতিল হওয়া বাসনপত্র থেকে গাড়ির সরঞ্জাম, পুরনো সিলিন্ডার— সবই এখানে প্রতিমা নির্মাণের উপকরণ। সারা বছর ধরে ২২০ কেজি বাতিল জিনিস সংগ্রহ করেছে ইন্দ্রপ্রস্থ মাতৃ মন্দির নির্মাণ সোসাইটির বাসিন্দারা। তাই দিয়েই তৈরি হয়েছে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ। ভাবনা রূপায়নে ছিলেন পিনাকী রঞ্জন সাহা। প্রতিমা গড়েছেন মিঠু চক্রবর্তী, দেবাশিস মিশ্র।

দিল্লির আরাধনা পার্কের প্রতিমা

দিল্লির অন্যতম পুরনো পুজো কাশ্মীরি গেট। ১৯১০ সালে শুরু হয়েছে এই পুজো। এবার কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, পুজোর জন্য এতটুকু যাতে দূষণ না ছড়ায়। সেজন্য পুজোর সময় তারা ভোগ বিতরণ করেছে পাতার বাটিতে। গত বছর পর্যন্ত প্লাস্টিকের বাটি, প্লেটে ভোগ বিতরণ করা হয়েছিল। এবার তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবার প্রতিমা বিসর্জনের পর যমুনার জল দ্বিগুণ পরিমাণ দূষিত হয়। এবার তাও বন্ধ করল কাশ্মীরি গেট পুজো কমিটি। তারা কৃত্রিম পুকুর তৈরি করে প্রতিমা নিরঞ্জন করল। মণ্ডপ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে বুরারিতে এই পুকুর তৈরি করা হয়। সেখানেই নিরঞ্জন হয়েছে দুর্গা প্রতিমা। একইভাবে কৃত্রিম পুকুর তৈরি করে প্রতিমা নিরঞ্জন করল দক্ষিণ দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কের পুজো কমিটিও।
ওড়িশায় ১১৫টি মণ্ডপে সিঙ্গল–ইউজ প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সব মণ্ডপে থার্মোকল বা প্লাস্টিকের বদলে পাতার বাটি, প্লেটে ভোগ দেওয়া হয়েছে। ভুবনেশ্বরের নয়াপল্লিতে খাওয়ার অযোগ্য ফল দিয়ে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। শঙ্খ, ঝিনুকের মতো জিনিসও ব্যবহার হয়েছে মম্ডপ তৈরিতে। রাঁচির মণ্ডপগুলোতেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে প্লাস্টিক। মণ্ডপের আশপাশে ফুড স্টলের মালিকদেরও প্লাস্টিক ব্যবহার কমানোর নির্দেশ দেওয়া ছিল।

বাগবাজার ঘাটে নিরঞ্জনের ছবিটি তুলেছেন তমাল পাল