নিউজপোল ডেস্ক: বাঙালির সেরা উৎসব দুর্গাপূজা। বারবার শুনতে শুনতে যেন এই কথাটার মানেও হালকা হয়ে গেছে। কিন্তু এই পুজোকে কেন্দ্র করে সত্যিই যে বাঙালির প্রবল ভক্তি, আবেগ, তা বোঝা যায় পুজোর সময় এলে। আরও ভাল করে বোঝা যাবে যদি প্রবাসের দিকে চোখ রাখেন। দেশের বাইরে যেসব বাঙালিরা রয়েছেন, তাঁরা প্রতি বছর আনন্দের সঙ্গে পালন করেন দুর্গোৎসব। কিন্তু কী তার রেওয়াজ? পৌরোহিত্য কারা করেন? কিংবা প্যান্ডেল বা মঞ্চসজ্জার কাজই বা করেন কারা? এসব নিয়ে ভেবেছেন কখনও? আর যা-ই হোক, পুরোহিত কিংবা প্যান্ডেল নির্মাণকর্মীদের তো এই দেশ থেকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না!
আকাশ-বাতাস তো বলছেই, তার ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ, নিউজ ফিড জুড়ে দুর্গাপূজার প্রস্তুতির ছবি চোখে পড়ে। কিন্তু সেসবই তো এদেশের। এমনও তো বাঙালি রয়েছেন, যাঁরা কাজের সূত্রে বিদেশেই থাকেন। তা বলে তো পুজো থেকে প্রবাসীরা বঞ্চিত হতে পারেন না! তাই বিদেশেও রমরমিয়ে চলছে দুর্গোৎসব। ছ’য়ের দশক থেকেই উত্তর-পশ্চিম লন্ডনে শুরু হয়েছিল এই উৎসব। তখন আকারে ছোট হলেও বর্তমানে তা বিরাট আকার নিয়েছে। সংবাদসূত্রের খবর, গত বছর প্রায় ৩০টি পুজো হয়েছে লন্ডনে। এই উৎসব যে শুধু প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তা আদৌ নয়। বরং সাড়ম্বরে পুজো উপলক্ষে সেখানে উপস্থিত হন ইংরেজরাও। হাতে গোনা পুজো হলেও প্রবাসের বাঙালিরা দূরদূরান্ত থেকে আসেন পুজো প্যান্ডেলগুলিতে।
সম্পূর্ণ আচার, রীতি মেনেই পুজো করেন প্রবাসীরা। তবে পেশাদার পুরোহিত পাওয়ার জো নেই সেখানে। তাই অগত্যা পুজোকমিটির সদস্যদের কেউ হয়তো পেশায় চিকিৎসক বা অন্য কাজে যুক্ত, তিনিই হয়ে ওঠেন পুরোহিত। অনেকে তো শখেও পৌরোহিত্য করেন। মণ্ডপ বা মঞ্চসজ্জার ক্ষেত্রেও হাত লাগেন তাঁদেরই কেউ কেউ। স্টেথোস্কোপের বদলে ছেনি-হাতুড়ি নিয়ে মঞ্চসজ্জার তোড়জোড় দেখলে এক মুহূর্তে প্রকৃত সত্য বোঝার উপায় নেই। উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের বেলসাইজ পার্ক এলাকা ছাড়াও পূর্বপ্রান্তের ইলফোর্ড টাউনে চোখে পড়ে এই উৎসবের ছবি। অনুষ্ঠানগুলি শুধু যে পুজোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তা নয়। পুজোর দিনগুলিতে পাত পেড়ে খাওয়ানোরও রেওয়াজ রয়েছে বিদেশের মাটিতে। মূলত নিরামিষ জাতীয় খাবারেরই বন্দোবস্ত থাকে এই সময়। তবে কোথাও কোথাও নবমীর সন্ধেতে আমিষের ব্যবস্থাও থাকে। সেখানের পূজার রীতিই হল, অতিথিদের পেট ভরে খাওয়ানো। আসলে বাঙালি কিনা! আদর-আপ্যায়নে বাঙালির ধারে-কাছে কি কেউ আছে? প্রবাসে থাকে বলে শুধু সুযোগ পায় না তারা। তাই দুর্গোৎসবকে নিয়ে প্রবাসী বাঙালির উৎসাহের সীমা নেই।