শ্রীজিতা ঘোষ: কয়েক বছর আগেও কিন্তু ভাবা যেত না কথাটা। এই ধরুন, বছর দশেক আগেও, পুজো মানে অনেকের কাছেই ছিল নিজেদের পাড়ার পুজো প্যান্ডেলে বসে দেদার আড্ডা, ভোগ খাওয়া। সেখান থেকে বেরিয়ে অন্য কোথাও ঘোরা অথবা ঠাকুর দেখার কথা বললেই বিরক্ত হতেন বেশিরভাগ। এখন কিন্তু ছবিটা বদলে গেছে। প্রায় মহালয়া থেকে লক্ষ্মীপুজো অবধি পুজো বিস্তার পেলেও, বিজ্ঞাপনের থাবা থেকে নিস্তার পায়নি পাড়ায় পাড়ায় সাবেকি, ছোট পুজোগুলো। বিজ্ঞাপনের আলোচ্ছটায় কোথায় যেন হারিয়ে গেছে এদের গরিমা।

ষষ্ঠীর দিন সন্ধেবেলা কুচোকাঁচারা নতুন জামা পড়ে দাদু-দিদাদের হাত ধরে বেরিয়ে পড়ত পাড়ার পুজো দেখতে। রামগড় গাঙ্গুলিবাগান অঞ্চলে এককালে বেশ নামকরা পুজো ছিল বৈশাখী ক্লাবের পুজো। সেখান থেকে রায়পুর ক্লাবের পুজো হয়ে যাত্রাশুরু সংঘের পুজো দেখে, বেলুন কিনে বাড়ি। সেটাই ছিল পুজো শুরুর অলিখিত নির্ঘণ্ট। তারপর সেদিনের কচিকাঁচারা বড় হয়েছে। রাজ্যে মসনদ বদলেছে, চিহ্নিত ক্লাবের অনুদান কমেছে, বিজ্ঞাপনের পুজোর প্রতি মানুষের টান বেড়েছে। পাড়ার পুজোগুলো এখন অনেকটা একা, ছেলেমেয়েরা পাকাপাকি ভাবে প্রবাসী হয়ে গেলে বাবা মায়েদের যেমন দশা হয়, সেরকম আর কী। তবে মজার ব্যাপার হল, ফ্ল্যাটবাড়ির যুগে আবার নতুন করে পুজো শুরুও হয়েছে। যেমন অরুণাচল সংঘের মাঠে রামগড় আবাসিক সমিতির পুজো।

থিমের বাতাস কোথাও লেগেছে, কোথাও লাগেনি এখনও। গাঙ্গুলিবাগান বৈশাখী সংঘ যেমন এখনও নিজেদের তথাকথিত কাঠামোই বজায় রেখেছে, সেরকমই পাশের পাড়ার রায়পুর ক্লাব বেশ কিছু বছর হল ঝুঁকেছে থিমের দিকের। বৈশাখীর ইউএসপি যদি হয়ে থাকে রুদ্র পাল ঘরানার সাবেকি প্রতিমা, রায়পুরের থিম এবার ‘খুঁটি পুজো’। না, এ খুঁটি শুধু গোল পোস্টের খুঁটি নয়, এই খুঁটি মানে মেরুদণ্ড। সেটার বিবর্তন নিয়েই এবারের মণ্ডপসজ্জা। রামগড় আবাসিক সমিতির পুজো অবশ্য এর কোনওটারই ধার ধারে না। এদের পুজো নিজেদের মতো করেই ঘরোয়া ছিমছাম পুজো।

তবু ষষ্ঠী-সপ্তমীর রাতেও ফাঁকা পড়ে থাকে মণ্ডপগুলো। হয়তো আশা করে থাকে, রাতজেগে হুল্লোড় শেষ হলে এখনও ঘরে ফিরবে সেইসব হারিয়ে যাওয়া কচিকাঁচারা।

ছবি: প্রতিবেদক