নিউজপোল ডেস্ক:‌ পূর্বে দুর্গাপুজো। মধ্য এবং পশ্চিম ভারতে নবরাত্রি। মোটামুটি সারা দেশই উৎসবে মেতে ওঠে এই শরৎকালে। আলোর রোশনাইয়ে ঢেকে যায় শহর। খাওয়াদাওয়া, হইচই, নতুন পোশাক— চারদিকে শুধু আনন্দ। শুধু দেশ নয়, আনন্দের ছোঁওয়া পৌঁছে যায় সাগরপারেও। এত হাসি–গানের মাঝে এই বাংলারই বুকে এক অঞ্চলে চলে শোক পালন। চার দিন ধরে দুর্গার হাতে অসুরের মৃত্যুর শোক করে ওঁরা।


ওঁরা পুরুলিয়ার সাঁওতাল। নিজেদের মহিষাসুরের বংশধর ভাবেন। তাই পূর্বপুরুষের মৃত্যুতে শোক পালন করেন। ওঁদের এই শোক পালন হুদুর দুর্গা উৎসব বলে পরিচিত। সাঁওতালি ভাষায় একে বলে দশাই উৎসব। সাঁওতালরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে, বহু যুগ আগে মহিষাসুরের অস্তিত্ব ছিল। তিনি এই পৃথিবীতে বিরাজমান ছিলেন। সাঁওতালদের দলনেতা ছিলেন তিনি। আর্যদের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন সাঁওতালদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে। আর্যরাই ষড়যন্ত্র করে এক নারীকে তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ করতে পাঠান। মহিষাসুর বীর। এক নারীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে অস্বীকার করেন। তাঁর গায়ে হাত তিনি দেবেন না, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অগত্যা দুর্গার কাছে পরাজয় হয় তাঁর। বীরের এই পরাজয় আজও ব্যথা দেয় সাঁওতালদের। পুজোর চারদিন তাঁরা মহিষাসুরের স্তুতি গান। তাঁর পুজো করেন।


তবে শোক পালন মানেই কান্নাকাটি, অন্ধকার— এসব ভাবলে ভুল হবে। রীতিমতো জাঁকজমক করে শোক পালন করেন সাঁওতালরা। নাচগান, ঢোল–করতাল, খাওয়া–দাওয়া— সবই চলে। দল বেঁধে নাচ–গান করেন সাঁওতালি পুরুষ, মহিলা। সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে ভোজ। নানা রকম সাঁওতালি পদ রেঁধে খান তাঁরা। সেই উৎসব দেখতে হাজির হন দেশ–বিদেশের পর্যটক।