কলকাতার বুকে ছড়িয়ে রয়েছে বহু পুরোনো অনেক দুর্গাপুজো(Durga Puja)। এমনই একটি পুজো হলো গার্ডেনরিচের ঘোষবাড়ির পুজো। এই বছর ১০১ বছরে পড়ল এই ঘোষবাড়ির পুজো। স্বর্গীয় রতনমালা ঘোষের হাত ধরে ১৯২০ সালে প্রথম এই পুজো শুরু হয়।

৯ বছর বয়সে রতনমালা ঘোষ(Ratanmala Ghosh) পুতুলরূপে প্রথম মা দুর্গাকে এই বাড়িতে পুজো করেন। তারপর থেকে দূর্গা প্রতিমাকে ষোড়শী রূপে পুজো করা শুরু হয়। এখনও একইভাবে ষোড়শী রূপেই মাকে পুজো করা হয়। মায়ের মূর্তি ঘোষবাড়ির দালানেই তৈরি করা হয়।

পঞ্চমীর সন্ধেয় মায়ের বোধন হয়। বাড়ির প্রধান ফটকে ও ঠাকুর দালানে মায়ের মাথার উপর আমপাতা ও কদম ফুল দিয়ে মাকে ‘তোরণ’ করা হয়।

মায়ের চৌকিতে আল্পনাও দেওয়া হয়। মহাষষ্ঠীর সকালে বাড়ির মধ্যবয়সীরা মিলে মাকে পারিবারিক গয়না দিয়ে সাজায়। এরপর মহাসপ্তমীর ভোরে হয় কলাবউ স্নান। সেখানে ঘোষবাড়ির ছেলেরা ঘট বয়ে নিয়ে যায় গঙ্গায়।

Durga Puja was started here by playing doll
কলাবউ

ঘটে জমানো জল তুলসীতলায় ফেলে তা শুদ্ধ করা হয়। মায়ের সামনে পাতা হয় ঘট, যা মূর্তির প্রতিরূপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ঘটে সোনার তিনটি চোখ(Golden eyes) বসানো হয়। পাশাপাশি, ঘটের পাশে রাখা হয় সরা, যাতে রাখা হয় চাল ও কয়েন।

সপ্তমীতে নবপত্রিকাকে সিঁদুর দিয়ে নতুন বধূ রূপে বরণ করার রীতি রয়েছে। বাড়ির লক্ষ্মী-গোপালকেও মায়ের পাশে স্থান দেওয়া হয়।

এরপর অষ্টমীতে চলে সন্ধিপুজোর আয়োজন। সন্ধিপুজোর জন্য আনা হয় ১০৮টি পদ্ম।

অষ্টমী ও নবমীর ঠিক সন্ধিক্ষণে মাকে সেই ১০৮টি পদ্ম অর্পণ করা হয়। সেই সময়ই ঠাকুরদালানের সিঁড়িতে জ্বালানো হয় ১০৮টি প্রদীপ।

সন্ধিক্ষণের আগের ও পরের পনেরো মিনিট মিলিয়ে মোট আধ ঘন্টা ধরে এই রীতি পালিত হয়। সন্ধিক্ষণের ঠিক আগে ধুনো পোড়ানো হয়।

সন্ধিপুজোর সময় মাকে চামুন্ডা রূপে পুজো করা হয়। সেদিন ব্রাহ্মণকে দেওয়া হয় মহানৈবেদ্য।এইদিন আগত সকলকে মিষ্টান্ন ও চরণামৃত বিতরণ করা হয়। এরপর মহানবমীতে হয় কুমারী পুজো।

Durga Puja was started here by playing doll
কুমারী পুজো

সাধারণত ১১ বছরের কম বয়সী কোনো ব্রাহ্মণ মেয়েকে মায়ের ডানদিকে বসিয়ে তাঁকে পুজো করা হয় ও প্রণামীও দেওয়া হয়।

মহানবমীর দিন চলে হোম যজ্ঞ এবং মাকে দেওয়া হয় মহাভোগ। সেই ভোগে থাকে খিচুড়ি, পায়েস, পরমান্ন, পাঁচ রকমের ভাজা ও খিড়।

Durga Puja was started here by playing doll
মহানবমীর হোম

সব রান্নাই বাড়িতে করা হয়। পুজোর অন্যান্য দিনের ভোগে থাকে আটার লুচি, পনিরের তরকারি, ভাজা, মিষ্টান্ন এবং হালুয়া।

অষ্টমীতে কেবল ফলপ্রসাদ দেওয়া হয় ভোগ হিসেবে। পুজোর শেষ দিন অর্থাৎ মহাদশমীতে বাড়ির তরফ বাড়ির বয়ঃজ্যেষ্ঠ, কনকাঞ্জলি পর্ব শেষ করে মায়ের সুতো কেটে মাকে বিদায় দিয়ে কৈলাসের পথে এগিয়ে দেন।

Durga Puja was started here by playing doll
বিদায় পর্ব

ওইদিন বাড়ির সকলে পায়ে হেঁটে মাকে নিয়ে গঙ্গা পর্যন্ত আসে। গার্ডেনরিচের প্রায় ৫০ শতাংশ বাসিন্দাই অঞ্জলি দেন এই ঘোষবাড়ির দুর্গাপুজোয়(Durga Puja)।

আপনিও পৌঁছে যেতে পারেন ঘোষবাড়ির দুর্গাপুজো(Durga Puja) দেখতে।

পুজোবাড়ির ঠিকানা – J356, পাহাড়পুর রোড, কলকাতা – ৭০০০২৪।

আরও পড়ুন – Citizenship: শেষমেষ ধর্মযুদ্ধের শিকার হবে অসম!