হাতি গাঁও-এ মোট ১০০টি হাতি রয়েছে এবং প্রায় ৮ হাজার পরিবার হাতি-পর্যটনের উপর নির্ভরশীল।

নিউজপোল ডেস্ক: জয়পুরের গাতি গাঁও-এ গত ৬ মাসে মৃত্যু হয়েছে চারটি হাতির। এই অঞ্চল হাতি কেন্দ্রিক পর্যটনের উপরেই নির্ভরশীল। হাতি গাঁও-এ মোট ১০০টি হাতি রয়েছে এবং প্রায় ৮ হাজার পরিবার হাতি-পর্যটনের উপর নির্ভরশীল। মাহুত, কেয়ারটেকার, চাষী, ট্যুরিস্ট গাইড মিলিয়ে বহু মানুষের জীবন ওলটপালট করে দিয়েছে করোনা। কিন্তু লকডাউনের আগে চিত্রটা একদম অন্যরকম ছিল। হাতি গাঁও থেকে হাতির পিঠে চেপে পর্যটকরা পাড়ি দিতেন আমের কেল্লার উদ্দেশে। প্রতিটি হাতির রক্ষণাবেক্ষণের জন্যে দিনে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা।

হাতি গাঁও বিকাশ সমীতির সভাপতি বাল্লু খান জানিয়েছেন, এই সব হাতি পর্যটকদের আমের কেল্লায় নিয়ে যেত। কিন্তু লকডাউনের জন্যে বন্ধ হয়ে যায় পর্যটক যাওয়া আসা। ফলে তাদের চলাফেরাও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ঘাটতি পড়ে এক্সারসাইজে। আর ঠিক এই কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাতিদের হজম ক্ষমতা। যার প্রভাব পড়ে তাদের স্বাস্থ্যে। ‘এখনও পর্যন্ত চারটি হাতির মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন আমের ফোর্ট ওঠানামা করার ফলেই তাদের হজম ক্ষমতা ভালো থাকত। কিন্তু লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে বন্ধ হয়ে যায় পর্যটন। হাতিদেরও আর প্রয়োজন পড়ে না। আমরা রোজ ওদের ৫-১০ কিমি রাস্তা হাঁটাতে নিয়ে যাই। কিন্তু কেল্লার চড়াই রাস্তা দিয়ে পর্যটক নিয়ে ওঠানামা করার মতো কসরত আর হয় কই! এটা বন্ধ হয়ে যাওয়াতেই ব্যাপক ক্ষতি হয় ওদের হজম শক্তির। ওদের নিয়মিত এক্সারসাইজ না হওয়ায় পা ফুলে যাচ্ছে। চিকিত্‍সকরা পরামর্শ দিয়েছেন পারলে যেন আমরা ওদের আমের ফোর্টে নিয়ে যাওয়া শুরু করি।’ তবে ৬ মাসে চারটি হাতির মৃত্যু অস্বাভাবিকভাবে বেশি। বাল্লু খানের জবানিতে চার-পাঁচ বছরে একটি হাতির মৃত্যু হয়ে থাকে। তবে ৬ মাসে চারটি হাতির এভাবে মৃত্যু খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

লকডাউন এবং করোনা সংক্রমণের ভয়ে জয়পুর বিদেশি পর্যটক-শূণ্য। স্থানীয় কিছু পর্যটকের দেখা মিললেও হাতি-পর্যটনকে চাঙ্গা করার জন্যে তা যথেষ্ঠ নয়। বাল্লু খান জানান, ‘বিদেশি পর্যটক একজনও নেই। সরকার যতদিন না ভিসা দেওয়া শুরু করবে বিদেশি পর্যটক আসার কোনও সম্ভাবনাও নেই। যদি পুরো দমেভারতীয় পর্যটকরাও আসা শুরু করেন তাহলে আমরা হাতি সাফারি শুরু করতে পারি। তাতেও পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে। শুরুতে মাসে ৬০০টাকা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু ২ মাস পর সেই সাহায্যও বন্ধ হয়ে যায়।’