নিউজপোল ডেস্ক: ‘রান’ ছবির সেই দৃশ্য মনে আছে? কাকের মাংসের বিরিয়ানি খাওয়ার পর অভিনেতা বিজয় রাজের গলা দিয়ে বেরচ্ছিল কাকের আওয়াজ। আর সেখানেই একজন পথচারীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল বিজয় রাজের। যার কাছে তিনি জানতে চাইছিলেন প্রতিবার হেঁচকির সঙ্গে কাকের ডাক আসছে কেন। সেই পথচারীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন যিনি, তিনিই হলেন মির্জাপুরের কালিন ভাইয়া। এই মুহূর্তে বলিউডের অন্যতম পরিচিত একটি নাম পঙ্কজ ত্রিপাঠী।

যাঁর অভিনীত গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর, মির্জাপুর, নিউটনের মতো ছবি মন কেড়েছে আপামর দর্শকের। কিন্তু ‘রান’ ছবির পঙ্কজ ত্রিপাঠী থেকে ঠান্ডা মাথার কালিন ভাইয়া হয়ে ওঠার সফরে কী কী না করতে হয়েছে তাঁকে। শুধুমাত্র ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামায় ভর্তি হওয়ার জন্যই স্নাতকে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। পুঁথিগতবিদ্যা বাদে সবকিছুতেই আকর্ষণ ছিল কালিন ভাইয়ার। একাধিকবার বিসমিল্লা খাঁয়ের কনসার্ট শুনতে সাইকেল নিয়ে মাইলকে মাইল পেরিয়ে শহরে গেছেন তিনি। ছাত্রাবস্থাতেই থিয়েটারের প্রতি একটা টান অনুভব করেন। কলেজে থাকাকালীন তিনি যোগ দিয়েছিলেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদে। ছাত্র বিক্ষোভে স্ট্রিট প্লে করে তাঁকে জেলেও যেতে হয়েছে। থিয়েটারের প্রতি ভালবাসা এতটাই নিখাদ। যে শুধু নাটক করবেন বলেই তিনি কাজ নিয়েছিলেন হোটেলের। এরপর ধীরে ধীরে এক পা এক পা করে এগিয়েছন লক্ষ্যের দিকে। আর এতদিন পরে নিজের স্বপ্নের বাড়িতে পা রাখলেন পঙ্কজ এবং তাঁর স্ত্রী মৃদুলা। বললেন ‘আমাদের স্বপ্ন ছিল ড্রইং রুম থেকে সমুদ্র দেখা।’ মাড আইল্যান্ডে তাঁদের স্বপ্নের বাড়িতে এই সপ্তাহেই ছিল গৃহপ্রবেশ। কিন্তু এতকিছু পেয়েও একদিন একমুহূর্তের জন্যেও নিজের অতীত ভোলেননি। তাঁর গ্রামের বাড়ির কথা, টিনের চালের কথা, সাইকেল নিয়ে টো টো করে বেড়ানোর কথা। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন যে, মাটি থেকে পা উঠে গেলে মুশকিল। কারণ বেশি উঁচু থেকে পড়লে ভেঙে গুঁড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।