নিউজপোল ডেস্ক: পুজোর সময় মুক্তি পাওয়ার কথা সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘গুমনামি বাবা’-র। ছবির বিষয়ের মতো, ছবি ঘিরেও ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বসু পরিবারের তরফ থেকে বিরোধিতা করা হয়েছে এই ছবির। এরপর পরিচালককে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলেও খবর। সৃজিত কিন্তু একচুল সরছেন না নিজের জায়গা থেকে। তাঁর বক্তব্য, জেলে পাঠালে চিত্রনাট্য আর একটু সূক্ষ্ম করে এই ছবি বানাবেনই তিনি। দেবব্রত রায় নামক এক ব্যক্তির আইনজীবীর কাছ থেকে আইনি নোটিসও পেয়েছেন সদ্য জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত এই পরিচালক। কিন্তু কোনও বাধা বা হুমকিতেই পিছু হঠছেন না সৃজিত।

ভারতের ইতিহাসে সবথেকে বড় অমীমাংসিত রহস্য নিঃসন্দেহে নেতাজীর অন্তর্ধান। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কোনও দিনই মেনে নিতে পারেনি বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যুর কথা। ইতিমধ্যে ২০১৬ সালে খবরে প্রকাশিত হয় সাতের দশকে উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদের এক সাধুর কথা, যাঁর সঙ্গে আপাতভাবে নেতাজীর বেশ কয়েকটি মিল পাওয়া গেছিল। যদিও স্থানীয়রা আজও বিশ্বাস করেন, এই গুমনামি বাবাই আদতে ছদ্মবেশি নেতাজি, কিন্তু নির্দিষ্টভাবে কোনও দিনই সেরকম কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২০১৬ সালে গুমনামি বাবার কথা পড়ার পর থেকেই তাঁর মাথায় এই ছবির ভাবনা ঘুরছিল বলে জানিয়েছেন সৃজিত। নিজে সেখানে গিয়ে রীতিমতো গবেষণা করে চিত্রনাট্যও তৈরি করেন তিনি।

কিন্তু প্রাথমিকভাবে বাধা আসে বসু পরিবারের তরফ থেকেই। তাঁদের মতে, কোনও তথ্য অথবা প্রামাণ্য ছবি ছাড়া এই গুমনামি বাবাই নেতাজি বলে দাবি করা রীতিমতো ফৌজদারি অপরাধ। এই ছবি তিনি এই দেশে থেকেই বানাবেন বলে দাবি সৃজিতের। তাঁকে আদালতে ডাকা হলে, সেখান থেকে সেট সাজানোর আইডিয়া নিয়ে ছবি বানাবেন তিনি। তাঁকে জেলে নিয়ে গেলে, সেখানে বসে চিত্রনাট্য আরও একটু ঘষামাজা করে নিয়ে ছবি বানাবেন। গতকাল, ১৫ আগস্ট ২০১৯ ভারতের ৭৩তম স্বাধীনতা দিবসে মুক্তি পেয়েছে সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘গুমনামি বাবা’-র টিজার। ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

টিজার অনুসারে, বেশ কয়েকটি বিতর্কিত বিষয় রয়েছে ছবিতে। যেমন একটি দৃশ্য অনুসারে, অনুমান করা হচ্ছে নেতাজি রুশ বাহিনীর দ্বারা আটক হয়েছিলেন এবং রাশিয়ায় তাঁকে অত্যাচার করে হত্যা করা হয়। অন্য একটি দৃশ্য অনুসারে, গান্ধিজি বসু পরিবারকে টেলিগ্রাম করে নেতাজির অন্ত্যেষ্টি বন্ধ করতে বলছেন। কারণ, তাঁর ধারণা বিমান দুর্ঘটনার পরও নেতাজি বেঁচে রয়েছেন। ঠিক কী দেখাতে চেয়েছেন সৃজিত এই ছবিতে? জানতে গেলে অপেক্ষা করতে হবে পুজো অবধি।