দেবাশীষ দাস: ফেসবুকের অফিস হোক কিংবা আর্কিমিডিসের জন্মদিন, পাতার পর পাতা উল্টে বিশ্বকোষের ভরসায় থাকি না আর কেউই। প্রযুক্তির দৌলতে ঢুঁ মারি উইকিপিডিয়ার পাতায়। অধিকাংশই চোখ বন্ধ করে ভরসা রাখেন তথ্যপঞ্জির এই আঁতুরঘরে। কিন্তু এইসব তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উইকিপিডিয়া নিজেই বলছে, ‘উইকিপিডিয়া ইজ নট অ্যা রিলায়েবল সোর্স’ অর্থাৎ তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে উইকিপিডিয়া মোটেও বিশ্বাসযোগ্য সংস্থা নয়।

ইন্টারনেটের যুগে ভারি ভারি তথ্যনির্ভর বই থেকে রেহাই পেয়েছি আমরা। একটা ক্লিকেই জেনে যাচ্ছি গোটা পৃথিবীর বিভিন্ন তথ্য। কিন্তু কতটা সত্যি সেই তথ্য, বিস্তর জল্পনা রয়েছে এই নিয়ে। উইকিপিডিয়া কী? কী বলছে তারা? কতটাই বা আস্থাভাজন এই উইকিপিডিয়া?

ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে ১৫ জানুয়ারি ২০০১ সালে প্রযুক্তির বাজারে আসে বহুভাষী বিশ্বকোষ- উইকিপিডিয়া। প্রায় ৩০০-এরও বেশি ভাষায় লভ্য এই এনসাইক্লোপিডিয়া ইউনাইটেড কিংডমের একটি অলাভজনক সংস্থা, উইকিমিডিয়ার অন্তর্ভুক্ত। মূলত  কিছুদিন আগে উইকিমিডিয়ার অফিসে একজন ভদ্রমহিলা উইকিপিডিয়ায় তথ্য সংযুক্ত করার বিষয়ে জানতে চেয়ে মেইল করেন। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘যখন আমরা তথ্য সংযুক্ত করতে পারি না বললাম, তখন উনি রীতিমতো রেগে গেলেন।’ শুধু তা-ই নয়, তারা আরও জানান, ‘উইকিপিডিয়ার পাতায় আমরা কোনওরকম তথ্য সরবরাহ করি না।’

একটি বিদেশি সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুসারে, এই মুহূর্তে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে প্রায় দুই লক্ষ এডিটর উইকিপিডিয়ার তথ্য জোগান। এক্ষেত্রে যে কেউই তথ্য জোগাতে পারেন। কোনও রকম খরচও লাগে না। উইকিপিডিয়ায় একটি অ্যাকাউন্ট থাকলেই হয়। স্বাভাবিকভাবেই উইকিতে পরিবেশিত তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সহজভাবে বলতে গেলে, বাস্তব জীবনে আমাদের বন্ধু-বান্ধব কিংবা আত্মীয়-পরিজনের মুখে কোনও কাহিনি শুনে যেভাবে কোনও তথ্য বিশ্বাস করি, ঠিক ততটাই বিশ্বস্ত উইকিপিডিয়া। তবে সমস্ত তথ্যই যে ভুল, এরকম কোনও নিশ্চয়তাও নেই। কিন্তু যে পদ্ধতিতে পরিবেশন করা হয়, ভুল তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েই যায়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ডেভিড বেকহাম ছিলেন চীনের গোলকিপার, এরকমই তথ্য দেওয়া ছিল উইকিপিডিয়ায়। প্লেটোর পরিচয়ে লেখা ছিল, তিনি ছিলেন আবহাওয়াবিদ। এছাড়া এডওয়ার্ড কেনেডির মৃত্যুদিন নিয়েও ভুল তথ্য ছিল উইকিতে। সুতরাং উইকিপিডিয়ার কোনও তথ্যে অন্ধের মতো ভরসা করার আগে সেই তথ্য যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।