নিউজপোল ডেস্কঃ দীর্ঘ লকডাউন, লম্বা করোনা যুদ্ধের পর ভারতে এসেছে করোনা প্রতিষেধক। কিন্তু করোনা বিধিতে কোনও বদল আনা চলবে না। এই কথা বলেই দেশবাসীকে সতর্ক করল কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই ভ্যাকসিন হাব থেকে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পৌঁছতে শুরু করেছে টিকা। কিন্তু ভ্যাকসিনই করোনা রোখার একমাত্র অস্ত্র নয়, মেনে চলতে হবে সামাজিক দূরত্ব, পরতে হবে মাস্ক, পালন করতে হবে করোনা বিধি। এই বার্তাই এল স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “করজোড়ে অনুরোধ করছি, একটি বা দু’টি ডোজ় নেওয়ার পরেও করোনা বিধি মেনে চলবেন। এমনটা ভাববেন না যে আমি তো করোনা টিকা পেয়ে গিয়েছি, তার মানে আমি যা ইচ্ছে করতে পারি।” ব্রিটেন, আমেরিকায় করোনা টিকাকরণ শুরু হয়েছে অনেক আগে। তবু সেই দেশের করোনা পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। দেশে যেন সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য আগাম সতর্ক কেন্দ্র। ভ্যাকসিন বন্টন শুরু হওয়ার দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সন্ধেয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানাল, ভারত বায়োটেকের কোভ্যাকসিন ও সেরামের কোভিশিল্ড, দু’টি ক্ষেত্রেই ডোজ় সম্পূর্ণ হতে ২৮ দিন সময় লাগবে। দ্বিতীয় ডোজ় নেওয়ার ১৪ দিন পর দেহে তৈরি হবে অ্যান্টিবডি। দেশে করোনা টিকাকরণ বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান ডঃ ভিকে পাল বলেন, “সবাই এগিয়ে এসে প্রতিষেধক নেবেন। দ্বিধার কোনও কারণ নেই।” দেশের করোনা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। এখন মাত্র তিনটি রাজ্যে সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি।

ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গেও এসে পৌঁছেছে করোনা টিকা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথমে করোনা টিকা পাবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এরপর প্রাধান্য দেওয়া হবে প্রথম সারির যোদ্ধা ও গুরুতর আক্রান্ত বয়স্কদের। সেই মতো প্রতি রাজ্যে প্রস্তুত হয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের তালিকা। ১৬ জানুয়ারি থেকেই সেই অনুযায়ী শুরু হবে টিকাকরণ।