American Congress: Britain's Labor Party is happy with the cancellation of Modi's bill
New Delhi: Farmers gather at Singhu border during their sit-in protest against the Centre's farm reform laws, in New Delhi, Saturday, Dec. 19, 2020. (PTI Photo/Manvender Vashist)(PTI19-12-2020_000099B)

অবশেষে কৃষকদের সামনে মাথা নত করলেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার গুরু নানকের জন্মদিনে জাতীর উদ্দেশে ভাষণে তিন কৃষি আইন(Farm Law) প্রত্যাহারের ঘোষণা করলেন নরেন্দ্র মদি।গত প্রায় এক বছর ধরে দফায় দফায় বহু আন্দোলন হয়েছে এই আইনগুলি নিয়ে। এমনকি কৃষক- মোদী বৈঠকও বসেছিল বহুবার। অবশেষে সেই আইন প্রত্যাহার হচ্চে।এদিক ভাসনে তিনি বললেন, ‘আমাদের তরফেই হয়তো কোনও খামতি রয়ে গিয়েছে যে আমরা সব কৃষকদের বোঝাতে পারিনি। কিন্তু,আজ পবিত্র মন থেকে বলছি,যা করেছিলাম কৃষকদের জন্য করেছি।যা করছি কৃষকদের জন্য করছি।’এই বিষয়ে কমিটি গঠন করার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

নরেন্দ্র মোদী আরও বলেন,’প্রাকৃতিকভাবে চাষাবাদ, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি কমিটি(Farm Law) গঠন করা হবে। যেখানে থাকবেন কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা, কৃষি বিজ্ঞানীরা এবং কৃষকরা। আমাদের সরকার কৃষকদের জন্য কাজ করেন।’বিগত এক বছর ধরে কৃষক এবং প্রশাসন অনড় ছিল যে যার জায়াগায়।তবে নিজের জায়গা থেকে সড়ে আসার পর প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপের সুর পাল্টে বলেন,’‘আসুন, সব আবার নতুন করে শুরু করা যাক, কাউকে দোষারোপের সময় নয়”।

Farm Law: The Prime Minister withdrew three controversial agricultural laws on Guru Nanak's birthday

যদিও এই সম্পূর্ণ ঘটনাকে খুব সোজা নজরে দেখছেন না রাজনীতিবিদরা।বরং এই পদক্ষেপকে অনেক বেশি ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছেন। কারণ গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে তিনটি কৃষি বিল আইনে(Farm Law) পরিণত করে সরকার। এরপরেই দিল্লি, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানাতে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। দেশজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন, বনধ ডাকা হয়। বিরোধীরা পাশে দাঁড়ান কৃষকদের। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয় বামপন্থী, কংগ্রেস, তৃণমূল সহ একাধিক রাজনৈতিক দল। শুধু দেশ নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও এই নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

আগামী বছরের গোড়াতেই ওই পাঞ্জাব এবং উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা ভোট। অর্থাৎ এই নির্বাচনী ভোটের একটা  বড় অংশ শিখ এবং জাঠ জনগোষ্ঠীর।গত বছর দিল্লি, পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্তানে বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়। বিশেষত, পঞ্জাবে সেই বিক্ষোভের আগুন তীব্র হতে থাকে। রাস্তা অবরোধ, রেল রোকো-আন্দোলনের মাধ্যমে কৃষি আইনের(Farm Law) বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিবাদ জানায় কৃষক সংগঠনগুলি।এই আন্দলনে শহীদ হন বহু কৃষক। তাঁদের অভিযোগ, নতুন আইনের ফলে লোকসানের মুখে পড়বেন কৃষকেরা।

তাঁরা এই আইনের কালো দিক হিসেবে তুলে ধরে বুঝতে পেরেছিল তাঁদের কিসে কিসে ক্ষতি হবে।এই যেমন,ফসল নিয়ে তাঁদের দরাদরির ক্ষমতা কমে যাবে, প্রচলিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) পাওয়া থেকেও বঞ্চিত হবেন তাঁরা। পাশাপাশি, বেসরকারি এবং বড় সংস্থাগুলির কাছে কৃষিপণ্য মজুত রাখার রাস্তাও খুলে যাবে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর পাল্টা দাবি ছিল নতুন কৃষি আইনে কোনও ভাবে কৃষকেরা বঞ্চনার শিকার হবেন না। এমএসপি ব্যবস্থাও থাকবে।