নিউজপোল ডেস্ক:‌ মুসলিম হয়ে বারাণসী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত পড়াবেন‍‌! কিছু‌ পড়ুয়া ফিরোজ খানের এই ‘‌দুঃসাহস’‌ মোটে বরদাস্ত করতে পারেননি। বিরোধিতা করেছেন। অথচ ফিরোজের বাবা বছরের পর বছর মন্দিরে বসে ভজন গাইছেন। সংস্কৃতে তিনিও পণ্ডিত। ওই ভাষাতে নিজে কিছু কৃষ্ণ ভজনও লিখেছেন। তাঁকে কিন্তু কখনও এ ধরনের বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়নি।
রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে বাগরু। সেখানেই জন্ম ফিরোজ খানের। তিন কামরার বাড়িতে থাকে খান পরিবার। বাবা রমজান খান নিয়মিত স্থানীয় মন্দিরে আরতি করেন। ভজন গান। তিনি সংস্কৃতে ‘‌শাস্ত্রী’‌ ডিগ্রি লাভ করেছেন। নিজে বেশ কয়েকটি ভজন লিখেছেন। সবই কৃষ্ণভক্তি নিয়ে। কাজের ফাকে শ্রীরামদেব গোশালা চৈতন্য ধামে সেবাও করেন। এ থেকে স্পষ্ট যে সংস্কৃত পড়ার উৎসাহ নিজের পরিবার থেকেই পেয়েছিলেন ফিরোজ।


সেই সংস্কৃত পড়াতে গিয়েই বিএইচইউ–তে বিরোধিতার মুখে পড়েন ফিরোজ। অনেক ছাত্র তাঁর ক্লাস বয়কট করেন। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমি সারাজীবন সংস্কৃত পড়েছি। কখনও মনে হয়নি আমি মুসলিম। অথচ পড়াতে গিয়ে এই প্রসঙ্গ তোলা হচ্ছে।’ কথাটা যে তিনি ভুল বলেননি, তা তাঁর বাড়ির পরিবেশ থেকে স্পষ্ট। তাঁর বাবা রমজান খান রোজ হারমোনিয়াম বাজিয়ে মন্দিরে ভজন গান। আবার মসজিদে গিয়ে নামাজও পড়েন। এই নিয়ে স্থানীয় হিন্দুরা কখনও বিরোধিতা করেনি। উল্টে বিএইচইউ–এর সমস্যার সময় ফিরোজের পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। রমজান জানালেন, ‘‌আমি খুব খুশি হয়েছিলাম, যে ছেলে অত বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। পড়ুয়াদের এই বিক্ষোভ দুর্ভাগ্যজনক। আমি অনুওরধ করছি, ওঁরা দেখুক আমার ছেলে কেমন, ও কী পরিবারে বড় হয়েছে’‌।
রমজান খানের আশা, তাঁদের পরিবার সম্পর্কে সব জানলে পড়ুয়ারা হয়তো বিক্ষোভ তুলে নেবে। তবে তিনি মনে করেন, ছেলের থেকে তাঁর ভাগ্য কিছুটা হলেও ভাল। কারণ নিজের ধর্মের জন্য কখনও বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়নি তাঁকে। ‘‌আমরা ভ্রাতৃত্বের পরিবেশে বাস করছি। আমি মসজিদ যাই আবার মন্দিরে ভজনও গাই। আমার বাবাও তাই করতেন। তাঁর থেকেই আমি সংস্কৃত শিখেছি। আমার থেকে ছেলে শিখেছে’‌। তাঁর বিশ্বাস, বাগরুর মতো বিএইচইউ–তেও ধর্মের ভিত্তিতে তাঁদের বিচার করা হবে না।