শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

নিউজপোল ডেস্ক: গত ২৮ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই হবে কলেজের অন্তিম বর্ষের পরীক্ষা। UGC-র সিদ্ধান্তে সায় দিলেও আদালত জানিয়ে দেয়, রাজ্যগুলি অন্তিম বর্ষের পরীক্ষা ছাড়া কোনও ছাত্রছাত্রীকে উত্তীর্ণ করতে পারবে না। তবে রাজ্যগুলি চাইলে পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে পারে। সেই মত পুজোর আগেই হবে রাজ্যের স্নাতর ও স্নাতকোত্তরের অন্তিম বর্ষের পরীক্ষা। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ১ থেকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যেই হবে ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা। ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই হয়ে যাবে ফলপ্রকাশ।

Covid-19 আবহে পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়ে আদালতে বেশ কয়েকটি আবেদন জমা পড়েছিল। দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যখন দিনদিন বাড়ছে, এই অবস্থায় পরীক্ষার আয়োজন করলে ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ থাকবে। তা ছাড়াও এই অবস্থায় সব রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ থাকায়, পরীক্ষা আয়োজনে সমস্যার মুখে পড়তে হবে বলেও জানানো হয় পিটিশনে। তাই পরীক্ষা বাতিল করার আর্জি জানানো হয়েছিল সর্বোচ্চ আদালতে। আবেদনকারীদের যুক্তি ছিল, কলেজে ছাত্রছাত্রীরা পাঁচটি সেমেস্টার সম্পূর্ণ করেছে, কিউমুলেটিভ গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ অর্থাত্‍‌ CGPA পেয়েছে। তার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা ছাড়াই ফল প্রকাশ করা যায়। ইউজিসি সেপ্টেম্বরের শেষের মধ্যে পরীক্ষার আয়োজন করার নির্দেশ দিয়েছিল। ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা ছাড়া ছাত্রছাত্রীদের ডিগ্রি দেওয়া যায় না।

অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ণের তত্ত্বে সায় না-দিয়ে ইউজিসি-র সিদ্ধান্তই বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট। তবে রাজ্যগুলি চাইলে করোনা আবহের কারণে পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে পরীক্ষা বাতিল করা যাবে না। শুক্রবার বিচারপতি বলেন, ‘রাজ্যগুলি যদি মনে করে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়, তবে তারা ইউজিসি-র কাছে আবেদন করতে পারে।’ এ দিন ভিডিয়ো কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে এই রায় দেন বিচারপতি অশোক ভূষণ, আর সুভাষ রেড্ডি ও এম আর শাহের বেঞ্চ।

তবে সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও পরীক্ষা হবে না বলে সে দিনই জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ বিষয়ে অনলাইনে পরীক্ষার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নির্দেশ দেন। বলেন, ‘পড়ুয়াদের বিরক্ত করব না আমরা। সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যে পরীক্ষা হবে না।’ এ দিকে, মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা, যে পরীক্ষায় বসবেন প্রায় ১৪ লক্ষ পরীক্ষার্থী৷