একুশের বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে সিপিএমের সাথে ফরোয়ার্ড ব্লকের(FB) সম্পর্কে ফাটল ধরেছিল। প্রকাশ্যে কেউ মুখ না খুললেও বোঝা যাচ্ছিল।

অবশেষে এই নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন ফরোয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়। একুশের নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য একক এবং সর্বতভাবে সিপিএমকে দায়ী করল ফরোয়ার্ড ব্লক(FB)

আইএসএফ এবং কংগ্রেসের উপর একুশের নির্বাচনে অতিরিক্ত নির্ভর করে ফেলেছে সিপিএম যা তাদের ভরাডুবির কারণ হয়েছে বলে

গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে উল্লেখ করেছেন নরেন চট্টোপাধ্যায়।

সিপিএমের এই নির্ভরশীলতাকে দুভার্গ্যজনক এবং লজ্জাজনক ঘটনা বলে আখ্যা দেন তিনি।

এমনকী, ভবিষ্যতে ফরোয়ার্ড ব্লক(FB) সিপিএমের সঙ্গে একসাথে আর কতদিন চলতে পারবে সেই নিয়েও চিন্তাভাবনা করতে হবে বলে জল্পনা জিইয়ে রাখলেন তিনি।

ফরোয়ার্ড ব্লকের(FB) স্পষ্ট অভিযোগ, একুশের বিধানসভা ভোটে বামপন্থীদের তরফ থেকে দাঁড়ানো প্রার্থীদের উপেক্ষা করা হয়েছে সিপিএমের পক্ষ থেকে এবং

বেশি ভরসা দেখানো হয়েছিল কংগ্রেস-আইএসএফের প্রার্থীদের উপর।

নরেন চট্টোপাধ্যায়ের মতে, “এটা আমজনতা ও বামপন্থী কর্মীরা মেনে নেয়নি।

এটা খুবই লজ্জাজনক বিষয় যে বামপন্থীরাই বামপন্থীদের উপর ভরসা করতে পারছে না।

তাহলে আমজনতা করবে কীভাবে! এদিকে বামপন্থীরা কংগ্রেস বা আইএসএফ-কে ভরসা করতে পারছে। কী এমন হল হঠাৎ!

কিন্তু দীর্ঘদিনের সাথী ফরোয়ার্ড ব্লক(FB) সহ অন্য বামপন্থীরাদের উপর ভরসা করল না সিপিএম।”

ফরোয়ার্ড ব্লকের দাবি, ১০০টি বিধানসভা কেন্দ্রে সমীক্ষা চালিয়ে তাঁরা জানতে পারে ৩০-৩৫টি কেন্দ্রে বুথ এজেন্টও ছিল না।

তাঁদের মতে, ধর্মীয় মেরুকরণ, কর্পোরেট পুঁজির মেরুকরণ এবং জাতপাতের মেরুকরণ-এর উপর নির্ভর করে একুশের ভোট হয়েছে।

তবে শুধু মাত্র সিপিএমকে দোষ দিয়ে ফরোয়ার্ড ব্লক নিজেদের ব্যর্থতার দায় কি এড়িয়ে যেতে পারে?

ভোটে ভরাডুবির দায় নেওয়ার দায়িত্ব কি তাদের একটুও নেই?

এই বিষয়ে অবশ্য উত্তর দেননি নরেন চট্টোপাধ্য়ায়। এই সাংবাদিক সম্মেলন নিয়ে সিপিএমের কোনও প্রতিক্রিয়াও এখনও অবধি পাওয়া যায়নি।