নিউজপোল ডেস্ক:‌ ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনাল। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে কঠিন সময়ে মাঠে নেমে ৯৭ রান করেছিলেন গৌতম গম্ভীর। মাত্র তিন রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি। ৪২তম ওভাবে থিশারা পেরেরার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আট বছর আগে বিশ্বকাপ ফাইনালে সেঞ্চুরি মিসের জন্য তিনি এবার অধিনায়ক ধোনিকেই দায়ী করলেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের ব্যাটিং। কম রানের মাথায় আউট হয়ে যান বীরেন্দ্র শেওয়াগ এবং শচীন তেণ্ডুলকর। এর পর ধোনির সঙ্গে গম্ভীরের ১০৯ রানের পার্টনারশিপ ভারতের ঝুলিতে বিশ্বকাপ এনে দেয়। কিন্তু গম্ভীরের শতরান অধরাই থাকে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে গম্ভীর জানালেন, ‘‌বারবার এই প্রশ্নের মুখে পড়েছি, যে ৯৭ রানের মাথায় কী হয়েছিল। প্রত্যেককে আমি একটাই কথা বলেছি, ৯৭ রানের আগে আমি নিজের ব্যক্তিগত স্কোর নিয়ে কিছু ভাবিনি। শুধু শ্রীলঙ্কার দেওয়া লক্ষ্য মাথায় রেখেছি’‌। তার পর কী হল?‌ সেই প্রশ্নের জবাবেই গম্ভীর বললেন, ‘‌মনে আছে, ওভার যখন শেষ হল, আমি আর ধোনি ক্রিজে। ধোনি আমায় বলেন, তিন রান বাকি। এটা করলেই তোমার শতরান হয়ে যাবে’‌।


গম্ভীরের মতে, ধোনির এই কথাটাই তাঁকে অতিরিক্ত সচেতন করে তোলে। ‘‌হঠাৎ করে যখনই ব্যক্তিগত স্কোর, ব্যক্তিগত কৃতিত্বের দিকে মনটা ঘুরে যায়, তখন রক্তচাপ বেড়ে যায়। এর আগে শুধুই শ্রীলঙ্কার রান তাড়া করার কথা ভাবছিলাম। যদি শুধু ওটাই লক্ষ্য হতো, তাহলে অনায়াসে শতরান করে ফেলতে পারতাম। যখন ৯৭–এ ছিলাম তখন আমি শুধু ওই সময়টা নিয়ে ভাবছিলাম। যেই শুনলাম তিন রান বাকি, তখনই শতরান করার ঝোঁক চাপল। এজন্য ওই সময়টা নিয়ে ভাবাই দরকার। আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে নিজেরে বললাম, এই তিন রান আমায় বাকি জীবন তাড়া করবে। সত্যিই তাই হয়েছে’‌। গম্ভীরের আক্ষেপ, ওই তিন রানের জন্য এখনও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে।
গম্ভীর আউট হয়ে যাওয়ার পর যুবরাজ সিং নামেন। তাঁর সঙ্গে ধোনির পার্টনারশিপ শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ এনে দেয় ভারতকে। ধোনি অপরাজিত ৯১ রান করেন। ম্যান অফ দ্য ম্যাচও তিনিই হয়েছিলেন। ৯৭ রান করেও সেবার গম্ভীর ম্যান অফ দ্য ম্যাচ পাননি। একই ঘটনা হয়েছিল ২০০৭ সালে টি–২০ বিশ্বকাপে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গম্ভীরই সর্বাধিক ৭৫ রান করেন। কিন্তু ম্যান অফ দ্য ম্যাচ পান ইরফান পাঠান। তিন উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। এর আগে ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়া বিরুদ্ধে সিবি সিরিজে ধোনির রোটেশনাল নীতি নিয়েও সমালোচনা করেছেন বিজেপি সাংসদ।