নিউজপোল ডেস্ক: কোনও নারীর নাম প্রেমিকা হিসেবে তুলে ধরে গান লেখার রেওয়াজ বাংলায় নতুন নয়। নচিকেতার নীলাঞ্জনা কিংবা পৌলমী থেকে ফসিল্‌সের মৌ.‌.‌.‌ তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। এই ধরনের গানের তালিকা তৈরি করতে গেলে জনপ্রিয়তার নিরিখে বেশ ওপরের দিকে থাকবে অঞ্জন দত্তের বেলা বোস। কে এই বেলা বোস অঞ্জনের জন্মদিনে জেনে নেওয়া যাক সেই কাহিনীই।
সালটা ১৯৯৪। মুক্তি পেল অঞ্জন দত্তের বেলা বোস। ভাইরাল শব্দটা তখনও শোনেনি বাঙালি। শুনলে হয়তো হিট কিংবা সুপারহিটের তকমা ছেড়ে ভাইরালই আখ্যা দেওয়া হতো এই গানকে। সে সময় মোবাইল ফোন ছিল না। যোগাযোগ বলতে রাস্তার কিছু মোড়ে টেলিফোনের বুথ। সেটাতে আঙুল ঘুরিয়ে ডায়াল করতে হতো। অঞ্জন দত্ত যখন বেলা বোস গানটা লিখেছিলেন‚ ছন্দ মেলাতে অনেক নম্বর বসিয়ে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ছন্দ মেলাতে গিয়ে টু ফোর ফোর ওয়ান ওয়ান থ্রি নাইনটাই (২৪৪১১৩৯) মিলে যায়। ‘শুনতে কি চাও’ নামের অ্যালবাম মুক্তি পেতেই বেলা বোস নামটা জনপ্রিয় হয়ে যায়। সেই নয়ের দশক থেকে আজও একভাবে বেজে চলেছে বেলা বোসের গান।


অঞ্জন দত্ত যখন ‘বেলা বোস’ লেখেন তখন কলকাতার ফোন নম্বর ছয় ডিজিটের ছিল। পরে সাত ডিজিট হওয়ামাত্র সেই সংখ্যার অস্তিত্ব চলে এল। আসলে ওই নম্বরটি ছিল হিন্দি সংবাদপত্র ‘দৈনিক বিশ্বামিত্র‘-র কার্যালয়ের। আবার অনেকে বলেন কার্যালয়ের নয়‚ সেটি ছিল ওই পত্রিকার তৎকালীন সম্পাদকের বাড়ির নম্বর। মোট কথা‚ ওই সংবাদপত্রের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল নম্বরটি। হাজার হাজার বার ওই নম্বরে ফোন গেছে বেলা বোসকে চেয়ে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায়, অঞ্জন দত্ত দুঃখপ্রকাশ করতে বাধ্য হন। কেন?‌ কারণ ঢাকা ট্রিবিউনকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে অঞ্জন জানিয়েছিলেন, ‘‌ওই সম্পাদক আমার বিরুদ্ধে মামলাই ঠুকে দিয়েছিলেন। আমি ওঁেক জানাই, নেহাত ছন্দ মেলানো ছাড়া আমার আর কোনও উদ্দেশ্য নেই। এমনকী বেলা বোস বলে কাউকে আমি চিনতামও না।’‌ যদিও সংস্কৃতির শহর সহনশীল কলকাতা হাসিমুখে এই অনিচ্ছাকৃত ভুলকে স্বাগত জানিয়েছিল। পরে অবশ্য সাত ডিজিট থেকে সংখ্যা আটে চলে যায়।
অঞ্জনের আর একটি জনপ্রিয় গান ‘‌কালো সাহেবের মেয়ে’‌। যে গানে তাঁর প্রেমিকার নাম মেরি অ্যান। অ্যাংলো ইন্ডিয়ান এই নারী কিন্তু রক্তমাংসেরই মানুষ ছিলেন। অঞ্জন তখন পড়তেন নবম শ্রেণিতে। ততদিনে আরও তিনটি প্রেম চলে এসেছে তাঁর জীবনে। তবে চতুর্থ প্রেমটিকে অঞ্জন অমর করে রেখেছেন তাঁর গানে।