নিউজপোল ডেস্ক:‌ তিনি দশভূজা। তাঁর দশভূজে ১০টি অস্ত্র। তাই তিনি দশপ্রহরণধারিণী। মহালয়া থেকে দশমী— এই ১০ দিন ধরে পূজিত তিনি। দুর্গাপুজো আর ‘‌দশ’‌ সংখ্যার মধ্যে অদ্ভুত এক যোগ রয়েছে। এ কথা নতুন করে বলে দিতে হয় না। যদিও দুর্গাপুজো সব সময় দশ দিন ধরে হয় না। অনেক সময়ই দু’‌টি তিথি একদিনে পড়ে। সেক্ষেত্রে ন’‌দিনেই শেষ হয়ে যায় পুজো। অনেক সময় আবার একটি তিথি দু’‌দিন ধরে চলে। সেক্ষেত্রে পুজোর দিন সংখ্যা বেড়ে যায়। মোদ্দা কথা দশমীতেই শেষ হয় পুজো। কিন্তু এই দশমী তিথির আগে ‘‌বিজয়া’‌ জুড়ল কীভাবে?‌


এই প্রশ্নের উত্তর পেতে গেলে দেবীর যুদ্ধের ইতিহাস জানাটা দরকার। মহীষাসুর দিন দিন অবধ্য হয়ে উঠছিলেন। তাঁকে রোখার জন্য জন্ম হয় দেবী দুর্গার। দেবতাদের তেজোশক্তি থেকে উদ্ভুত হন তিনি। আদি বা আদ্যা শক্তির প্রতীক দেবীকে দশ আয়ুধ বা অস্ত্র দেন দেবতারা।
কমণ্ডলু দিয়েছিলেন প্রজাপতি ব্রহ্মা
সুদর্শন চক্র দিয়েছিলেন বিষ্ণু
ত্রিশূল দিয়েছিলেন মহেশ্বর
শরপূর্ণ তুণীর পেয়েছিলেন বরুণদেবের কাছ থেকে
দেবরাজ ইন্দ্রর কাছে পেলেন বজ্র
কাল বা সময় দিলেন তলোয়ার
অগ্নিদেব দিয়েছিলেন অগ্নিশিখা
যমরাজ দিয়েছিলেন রাজদণ্ড
বিষ্ণুর বাহন ঐরাবৎ দিলেন ঘণ্টা
হিমালয় পর্বতের কাছ থেকে পেলেন বাহন সিংহ
তবে কিছু অস্ত্র নিয়ে মতান্তর রয়েছে। যেমন‚ অনেক জায়গায় দেবীর হাতে দেখা যায় সর্প‚ শঙ্খ এবং আধফোটা পদ্মকলিও। যাই হোক‚ দশ হাতে দশ আয়ুধ নিয়ে বাহনে আসীন দেবী রণযাত্রায় অবতীর্ণ হলেন মহিষাসুরের বিরুদ্ধে। দশদিন যুদ্ধের পরে রণে ভঙ্গ দিলেন মহিষাসুর। পিতৃপক্ষের অবসানে অমাবস্যা তিথিতে সৃষ্টি দেবী দুর্গার। একে বলে মহালয়া। এরপর দশদিন যুদ্ধের পরে দশমী তিথিতে পরাজিত ও দশভুজার হাতে নিহত হন মহিষাসুর । অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে বিজয়ী হল শুভ শক্তি। তাই দশমী তিথিকে বলা হয় বিজয় দশমী। সেটাই মুখে মুখে হয়ে গেছে বিজয়া দশমী।


বাংলায় বিজয়া দশমী। দেশের অন্য প্রান্তে তা দশেরা। ওই দিন পোড়ানো হয় রাবণের কুশপুত্তলিকা। দশানন রাবণের বিরুদ্ধে রামচন্দ্রের জয়ের প্রতীক এটি। অশুভর বিরুদ্ধে শুভর জয়। তবে রাবণকে রামচন্দ্র বধ করেছিলেন অষ্টমী নবমীর সন্ধিক্ষণে। এই তিথিতেই হয় সন্ধিপুজো। রাবণনিধনের পরের অমাবস্যা কাটিয়ে দীপাবলীতে অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তন করেছিলেন রামচন্দ্র-সীতা-লক্ষ্মণ।