নিজস্ব প্রতিনিধি: কথা বেশি, কাজ কম। তার সঙ্গে রয়েছে আলটপকা মন্তব্য করার রোগ। দু’‌য়ে মিলিয়ে বঙ্গ বিজেপির নেতাদের ওপরে রীতিমতো রুষ্ট অমিত শাহ। সূত্রের খবর, নিজের শেষ কলকাতা সফরে এসে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে বঙ্গ–বিজেপি নেতাদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন অমিত। পাশাপাশি রাজ্যে একের পর বিজেপিকর্মী হত্যা এবং রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা‌র ঘটনা হাতে পেয়েও সেটাকে ইস্যু বানাতে পারছেন না বাংলার বিজেপি নেতারা, সেটা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অমিত। পাশাপাশি এনআরসি, ক্যাব (সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল), বাংলায় বিজেপি কর্মীদের মৃত্যু সহ বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্য নেতৃত্বের কাজ ও বক্তব্য অমিতের পছন্দ হয়নি বলেই সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে।

অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া শুরু হওয়া থেকেই এটি নিয়ে একের পরে এক বিতর্কিত মন্তব্য করছেন বঙ্গ-বিজেপি নেতারা। অনেকেই মনে করছেন, এতে দু’‌ধরনের অসুবিধে হচ্ছে। এক, এই বক্তব্যগুলোকে সামনে রেখে পাল্টা এনআরসি বিরোধী প্রচারের সুযোগ পাচ্ছেন বিরোধীরা৷ পাশাপাশি বঙ্গ-বিজেপি নেতাদের হুমকির সুরে বক্তব্যের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে। এনআরসি নিয়ে ভয় তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে। এর ফল যে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের বাক্সে পড়বে, সেটা ভাল মতোই জানেন অমিত। আর সেই কারণেই তিনি বাংলার বিজেপি নেতাদের আলটপকা মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নারাজ বাংলার কোনও বিজেপি নেতাই। রাজ্য বিজেপির এক যুব নেতাকে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনার যখন সূত্র মারফৎ খবর জোগাড় করেছেন তখন তার দায় আমি নেবো না। তবে এটা ঠিক দলের কিছু লোকের কাজে খুশি নন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।’
এমনিতেই অসমে এনআরসি–তে বড় সংখ্যায় হিন্দু বাঙালির নাম বাদ যাওয়াতে যথেষ্ট চাপের মুখে বিজেপি। সূত্রের খবর, বিজেপির সেনাপতি এবং দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা চাইছেন ক্যাব (সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০১৬) পাশ করানোর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখুন। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা এবং এ ব্যাপারে বিজেপি নেতাদের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের পর বাংলায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। এখন বাংলার বৃহৎ সংখ্যক মানুষ যদি ক্যাব এবং এনআরসিকে সমর্থন করেন তাহলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর উপর পাল্টা চাপ তৈরি হবে। এবং সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল পুনরায় সংসদে পেশ হলে তা পাশ করানোর ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে এই বিল সংসদে পাশ করতে চেয়েছিল মোদী সরকার। কিন্তু তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেসের মতো দলগুলির বিরোধিতায় তা রাজ্যসভায় আটকে গিয়েছিল।