নিউজপোল ডেস্ক: ১০০ বছর আগে হকির মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নেয় ভারত। ১৯২৮ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত পরপর ৬টি স্বর্ণপদক পায় জাতীয় হকি দল। কিন্তু তার পর থেকে আজ পর্যন্ত হকিতে ভারতের সর্বসাকুল্যে দু’‌টো সোনা পেয়েছে। কী এমন হলো, যাতে ভারতীয় জাতীয় হকি দলের এই দুর্দশা?‌ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলির মতো অ্যাস্ট্রোটার্ফ একটি অন্যতম কারণ।
১৯২৮ সাল থেকে শুরু হয়েছিল ভারতে জয়যাত্রা। তারপর মোট আটটি স্বর্ণপদক জেতে ভারতীয় হকি দল। শেষ ৫০ বছরে মাত্র ২টি স্বর্ণপদক জয় করেছে ভারত। সহজেই আন্দাজ করা যায়, জাতীয় হকি দলের দুরবস্থার কথা। বিশেষজ্ঞের একাংশের মতে, অ্যাস্ট্রোটার্ফ বা কৃত্রিম ঘাস বসানোই কাল হয়েছে জাতীয় হকির ক্ষেত্রে। এই বিষয়ে পরিসংখ্যানও দিয়েছে বিশেষজ্ঞমহল। ১৯৫৬ সালের পর ১৯৬৪ ও ১৯৮০ সালে জাতীয় হকি দল সোনা জিতেছে। এদিকে ১৯৭৬ সালে মন্ট্রিল-এ অনুষ্ঠিত অলিম্পিকেই প্রথমবার কৃত্রিম ঘাসের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। সুতরাং, এই হিসেব অনুসারে, ভারতের সর্বমোট আটটি অলিম্পিক স্বর্ণপদকের মধ্যে সাতটিই ১৯৭৬ সালের আগে। অ্যাস্ট্রোটার্ফ বসানোর পর শুধু একবার সোনা জিতেছে ভারত। র‌্যাঙ্ক নিম্নগামী। শেষ দু’বছরের ফল দেখলেই পাওয়া যাবে তার প্রমাণ। ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকে দ্বাদশ এবং ২০১৬ সালে ব্রাজিল অলিম্পিকে ভারতের স্থান ছিল অষ্টম। তাহলে ভারতের হকি দলের এই অবনমনের নেপথ্যে কি সত্যিই অ্যাস্ট্রোটার্ফের ভূমিকা রয়েছে!
কৃত্রিম ঘাস বসানোর অনেক সমস্যা রয়েছে। ফলে বিশ্ব দরবারে জাতীয় হকি দলের বিপর্যয় নেমে এসেছে।
১. অ্যাস্ট্রোটার্ফ বসানো এবং পরিচর্যা পদ্ধতিটি ব্যয়বহুল। তাই ভারতের সর্বত্র এই টার্ফের মাঠ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। তাই কৃত্রিম ঘাসের মাঠে অনুশীলন করার সুযোগ পায় না খেলোয়াড়রা। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাঁদের কৃত্রিম টার্ফের মাঠেই খেলতে হয়।
২. এছাড়াও খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো, এই ঘাস কৃত্রিম হওয়ায় প্রাকৃতিক ঘাসের তুলনায় অধিক তাপমাত্রা সরবরাহ করে। ফলে খেলার সময় প্রায়শই চোটের সম্মুখীন হন খেলোয়াড়রা। প্রাকৃতিক ঘাসের ক্ষেত্রে বরং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু টার্ফের তাপমাত্রা প্রায় ১৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি।
৩. এই টার্ফে রবার জাতীয় উপাদান ও বিভিন্ন রাসায়নিক থাকে। তাই কিডনি, ফুসফুস ও যকৃতের ওপর কুপ্রভাব পড়ে। ফলে শারীরিক ক্ষতির মুখেও পড়েন খেলোয়াড়রা।
৪. কৃত্রিম ঘাস পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে অক্ষম। ফলে টার্ফের মাঠের পরিবেশেও দেখা যায় অস্বাস্থ্যকর আবহাওয়া।