নিউজপোল ডেস্ক: চুরি, ডাকাতির বিচার আইনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। কিন্তু উন্নয়নের স্বার্থে বছরের পর বছর একের পর এক প্রজাতি যে মানবজাতির কারণে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে তার কি আদৌ বিচার করা হয়? এই প্রশ্নই এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে ব্রিটেনের সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের ওয়ালে–ওয়ালে। নেপথ্যে বিলুপ্ত হতে বসাহাই ব্রাউন ফ্রিটিলারি প্রজাপতিরা। যারা বিলোপের পথে হাঁটছে এক ও একমাত্র মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতায়।

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণাপত্রে জানানো হয়েছে ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিট্রেনের তাপমাত্রা বসন্তকালে ০.৫ ডিগ্রি বেড়ে গিয়েছে। এ জন্য দায়ী ব্রিটেনবাসী করা পরিবেশ দূষণ। ফলে ওই প্রজাপতির বসতি ব্রিটেনের উত্তরাঞ্চল থেকে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হতে শুরু করেছে। অথচ এটাই ছিল তাদের প্রধান বাসস্থান।
যেসব বিরল প্রজাতির প্রজাপতির উপর বিশ্বায়নের কোপ পড়েছে, তাদের মধ্যে সবথেকে বেশি প্রভাবিত হয়েছে হাই ব্রাউন ফ্রিটিলারি প্রজাপতি। এদের প্রজননের সময় কমে এসেছে, উপরন্ত পিউপা থেকে বেড়োনোর পর তাদের খাদ্যতালিকা অনুযায়ী খাদ্যের সরবরাহ না থাকায় তারা বিপর্যস্ত হচ্ছে। জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. ক্যালাম ম্যাকগ্রেগরের মতে, সাধারণত প্রজাপতিরা উষ্ণতাপ্রিয় হয়ে থাকে। তাই তাদের বেশিরভাগ প্রজাতি পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার কারণে উত্তরের উষ্ণাঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যদিও সমস্ত জীবজন্তুদের মধ্যে এখনও বিপুল পরিমাণে এই সচেতনা তৈরী হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের গবেষণায় প্রথমত এটা প্রমাণ করা প্রয়োজন ছিল যে, জলবায়ুর পরিবর্তনের সঙ্গে প্রজাপতি এবং মথের বাসস্থান পরিবর্তনের মধ্যে একটি গভীর সংযোগ আছে। জীবজগতে এভাবে বহু প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে শুধুমাত্র অবহেলার কারণে। একমাত্র সেই প্রজাতিরাই বংশবিস্তার করতে পারছে, যারা লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছে। এমনভাবে চলতে থাকলে আর বেশিদিন নেই, যখন সমস্ত জীবজগত বিলুপ্তির মহাপ্রস্থানের পথে চলতে থাকবে।