“সারা পৃথিবীর উন্নত দেশগুলিতে মাটির বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র নথিভুক্ত করতে সয়েল ম্যাপের ব্যবহার করা হয়। ভারতে এতদিন ফিল্ড ইনফরমেশনের ভিত্তিতে সেই মানচিত্র তৈরির প্রক্রিয়া এগোলেও বাস্তুবে এরকম পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র তৈরি সম্ভব ছিল না। তাই আমরা গাণিতিক মডেল তৈরি করে মানচিত্র তৈরি করেছি। ভারতে এমন উদ্যোগ সম্ভবত এই প্রথম।” বলছিলেন খড়গপুর আইআইটি-র কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের গবেষক সৌরভ রায়। সম্প্রতি এই বিভাগ থেকেই গবেষকরা তৈরি করেছেন দেশের প্রথম ডিজিটাল সয়েল ম্যাপ।

মানচিত্রটি তৈরি করতে ভারতের মূল ভূখণ্ডটিকে কতগুলি বর্গাকার খণ্ডে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি খণ্ডের এক একটি বাহুর দৈর্ঘ্য ৫০০ মিটার। এই ডিজিটাল ম্যাপ থেকে প্রতিটা খণ্ডের মাটির যাবতীয় বৈষিষ্ট্য জানা যাবে। “মাটির পিএইচ ভ্যালু, বিভিন্ন রাসায়নিকের পরিমাণ, মাটির প্রকৃতি, জলধারণ ক্ষমতা প্রভৃতি যাবতীয় তথ্য আমরা এই মানচিত্রে নথিভুক্ত করেছি।” জানালেন গবেষণার তত্ত্বাবধানে থাকা অধ্যাপক ভবাণীশঙ্কর দাস। তাঁর কথায়, “ডিজিটাল ম্যাপ হলেও আমাদের প্রাথমিকভাবে নির্ভর করতে হয়েছে ফিল্ড ইনফরমেশনের উপরেই। সারা দেশের ১৭৭০টি অঞ্চল থেকে মাটির নমুনা পরীক্ষা করে সেইসমস্ত তথ্য গাণিতিক সমীকরণের সাহায্যে বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে”, বলছিলেন অধ্যাপক দাস। গত ৫ বছরে তিন দফায় এইসমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

এখনই অবশ্য এই ডিজিটাল মানচিত্র সবাই ব্যবহার করতে পারবেন না বলেই জানিয়েছে খড়গপুর আইআইটি। বিশেষ কোনো সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার প্রয়োজনে এইসমস্ত তথ্য জানানো হবে। পাশাপাশি চলবে মানচিত্রটি আরও নিখুঁত করে তোলার কাজও। যে কোনো সময় মানচিত্রের যাবতীয় তথ্য পরিমার্জনার ব্যবস্থা থাকবে। অবশেষে গবেষকদের মতে মানচিত্রটি ব্যবহারযোগ্য হলে তবেই তা সকলের সামনে হাজির করা হবে। এরপর দেশের কৃষি-অর্থনীতিতে তাকে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত অবশ্য সরকারের উপরেই ছেড়ে দিতে চান গবেষকরা।