নিউজপোল ডেস্কঃ ইংল্যান্ডের পাহাড় সমান রান তাড়া করতে নেমে বিপর্যয়ের মুখে ভারত। তৃতীয় দিনের শেষে ছয় উইকেট হারিয়ে রীতিমতো কোণঠাসা কোহলি এন্ড কোং। দিনের শেষে ভারতের রান ৬ উইকেটে ২৫৭। ওয়াশিংটন সুন্দর ৩৩ এবং অশ্বিন ৮ রানে ক্রিজে অপরাজিত রয়েছেন।

এদিন দিনের শুরুতে প্রথম এক ঘণ্টায় অবশিষ্ট দুই উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের ইতি টানে ভারত। কিন্তু তার আগেই স্কোরবোর্ডে ৫৭৮ রানের বিরাট রান খাঁড়া করেন রুট ব্রিগেড। পাহাড় সমান সেই রান চেস করতে নেমে শুরু থেকেই ধুঁকতে দেখা গেছে ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারকে। দলের ১৯ রানের মাথায় প্রথম ঝটকা আসে রোহিত শর্মা’র রূপে। ব্যক্তিগত ৬ রানে জোফ্রা আর্চারেরে বলে জশ বাটলারের হাতে ধরা দেন তিনি। অন্যদিকে দারুন ছন্দে খলতে থাকা শুভমান গিল’কে কিছু পরেই সাজঘরে ফেরান আর্চার। তিনি করেন ২৯ রান। দুই উইকেট পড়তেই ম্যাচের হাল ধরতে ক্রিজে আসেন ক্যাপ্টেন কোহলি। কিন্তু এদিন প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ তিনি। মাত্র ১১ রান করে ডোমিনিক বেস-এর বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে বসেন বিরাট। অধিনায়কের মতোই এদিন ব্যাট হাতে দলকে ভরসা যোগাতে অসফল সহ-অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানেও। ব্যক্তিগত ১ রান করে ক্যাচ আউট হয়ে প্যভেলিয়ানের রাস্তা ধরেন তিনি। ৭২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পরে যায় ভারত। সেখান থেকে পূজারা-পান্থ জুটি ম্যাচের হাল ধরেন। দু’জনে ১১৯ রানের পার্টনারশিপের ওপর ভর করে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়ায় ভারত। চাপের মধ্যে থেকেও এদিন পান্থে’র আক্রমণাত্মক মেজাজে চিন্তার ভাঁজ দেখা দেয় ইংল্যান্ড শিবিরের কপালে। ৯টি চার এবং ৫টি ছক্কার বিনিময়ে ৮৮ বলে ৯১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিন। কিন্তু দলের ১৯২ রানের মাথায় আবারও একটি বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন ঋশভ। অন্যপ্রান্তে দুর্দান্ত ছন্দে খলতে থাকা পূজারাও কিছু পরেই ৭৩ রান করে আউট হতেই ফের চাপে পড়ে দল।

মাত্র ২২৫ রানে ৬ উইকেট হারাতেই ফলোঅন-এর দুঃস্বপ্ন ঘনাতে শুরু করে ভারতীয় শিবিরে। কিন্তু এদিন শেষ লগ্নে আর কোনও উইকেটে পড়তে দেননি সুন্দর-অশ্বিন জুটি। শেষ বেলাতে অভিজ্ঞতা উজার করে দিয়ে উইকেটে’র পতন রোধ করেন এই জুটি। দিনের শেষে দলের রান ৬ উইকেটের বিনিময়ে ২৫৭। ম্যাচের তৃতীয় দিনে পিচের মাটি আলগা হতেই দুই ব্রিটিশ স্পিনার ভেল্কি দেখাতে শুরু করেন। যদিও জ্যাক লিচের বিরুদ্ধে এদিন আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন পান্থ। ফলে তাঁর হাতে সাফল্য না এলেও অন্য স্পিনার ডম বেস ৪টি উইকেটে তুলে নিয়েছেন। অন্যদিকে আর্চারের ঝুলিতে রয়েছে বাকি দুটি উইকেট। এই মুহূর্তে ম্যাচের যা পরস্থিতি তাতে চতুর্থ দিনে ফলোঅন এড়ানোটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ কোহলি ব্রিগেডের কাছে। কারন ফলোঅন এড়াতে এখনো প্রয়োজন ১২২ রান। এদিকে পিচের যা পরস্থিতি তাতে আগামীকাল স্পিনাররা আরও বেশী সুবিধা পাবেন তা বলাই বাহুল্য। সেক্ষেত্রে রান করা মোটেও সহজ হবেনা বাকিদের কাছে।