নিউজপোল ডেস্ক: ভারতের প্রধান খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থা যেমন সুইগি, জোম্যাটো এবং উবেরইটসের সাম্প্রতিক তথ্য মিলিত ভাবে বলছে, মিনিটে অন্তত ২০০টি বিরিয়ানি অর্ডার করেন ভারতীয়রা। শুধু ২০১৯ সালেই সারা দেশে ১০ কোটি বিরিয়ানি অর্ডার হয়েছে।

ভারতে অন্তত বিরিয়ানির সামনে পিৎজা-বার্গার যে গোহারা হারছে সেটা বলাই চলে। এখানে বিরিয়ানির বৈচিত্র্যও অনেক— হায়দরাবাদি, লখনউই, কেরলীয়, দিল্লি অথবা কলকাতা ছাড়াও অনামি কয়েকটি সংস্থার বিরিয়ানিও অনেক সময়েই মনোগ্রাহী হয় খাদ্য রসিকদের। এত বৈচিত্র্যের কারণেই প্রায় অর্ধ শতক ধরে ভারতের সবথেকে জনপ্রিয় খাদ্য বিরিয়ানিই, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের। তবে ২০১৯ সালের সমস্ত অর্ডারের মধ্যে, সবথেকে বেশি হয়েছে হায়দরাবাদ থেকেই। এখানকার বাসিন্দারা গত এক বছরে খেয়েছেন ৫০ লক্ষ মাটন বিরিয়ানি এবং ৬০ লক্ষ চিকেন বিরিয়ানি। ২০১৬ সালের রাষ্ট্রীয় সমীক্ষা অনুদারে, তেলঙ্গনাতেই নিরামিষাশী মানুষের সংখ্যা ছিল সবথেকে বেশি। আমিষভোজীদের সংখ্যাটা এই রাজ্যে ছিল -৯৯ শতাংশ। সেখান থেকেই সিংহভাগ অর্ডার আসাটা নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ।

খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বিরিয়ানি পৌঁছে দেওয়াটা তাঁদের পক্ষেও সহজতর। প্রথমত, এর প্যাকিং করা সবথেকে সহজ এবং অন্যান্য খাবার যেমন দোসা ইত্যাদির মতো এর ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। নিজের বাজেটের ওপর নির্ভর করেও ক্রেতাদের কাছে ভরপেট খাবার হিসেবে বিরিয়ানিই সবথেকে সুলভ বিকল্প। সুইগি জানাচ্ছে, মুম্বইয়ের ‘চল ধন্নো তাওয়া বিরিয়ানি’ যেমন ১৯ টাকায় বিকিয়েছে, তেমনই কমতি হয়নি ১৫০০ টাকা মূল্যের পুনের ‘চিকেন সাজুক টুপ বিরিয়ানি’ বিক্রিতেও। বর্তমান প্রজন্মের খাদ্যরসিকদের রসনা অনুসারে, বিরিয়ানির প্রকারও বেড়েছে। বেঙ্গালুরুর শেফ কবিতা জয়সিংহ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘এখনকার দিনে লো ফ্যাট বিরিয়ানি, ভিগ্যান বিরিয়ানি, তোফু বিরিয়ানি এমনকী পাস্তা বিরিয়ানিও বানানো হচ্ছে।’