জাপানের সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একটা বড় অধ্যায় জড়িয়ে আছে। আজাদ হিন্দ ফৌজের অনেক কর্মসূচির পরিকল্পনা হয়েছিল জাপানে। সেই জাপানের পার্লামেন্টের সামনে প্রজাতন্ত্র দিবসে তেরঙ্গা ওড়ালেন বাঙালি মেয়ে নুপুর তিওয়ারি। সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগেই ৭২-তম প্রজাতন্ত্র দিবসে জাপানের ভারতীয় দূতাবাস থেকে পার্লামেন্ট পর্যন্ত তেরঙ্গা হাতে হাঁটলেন তিনি। দূতাবাসের তরফেই তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় ভারতের পতাকা।

ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে ৮ টায় ও জাপানের সময় বেলা ১২ টায় নুপুর পৌঁছন জাপানের পার্লামেন্টে। তাঁর পরনে ছিল শাড়ি, হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা। এই বঙ্গ তনয়া প্রায় দু’দশক ধরে জাপানে বসবাস করছেন। সংসার সেখানেই। স্পষ্ট বলতে পারেন জাপানি ভাষা,চোখে মুখেও জাপানি ছোঁয়া। যোগ ব্যায়ামের প্রশিক্ষণ দেন তিনি। জাপানের বহু মানুষ নুপুরের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সে দেশে স্বচ্ছ ভারত অভিযানও শুরু করেছেন এই বঙ্গ তনয়া।

তাঁর স্বচ্ছ ভারতের উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন,“জাপানিরা বলেন সৌজি, যার মানে বাংলা ভাষায় স্বচ্ছ অভিযান। মাঝে মধ্যে রাস্তায় অল্পবিস্তর বটল ক্যান থাকে। তাছাড়া জাপানিরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।” লকডাউন-এর সময় জাপানের বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। সেখানেও সঙ্গী ছিল তেরঙ্গা। “তবে সবথেকে ঐতিহাসিক আজকের দিনটি, কারণ ইতিহাসে প্রথম দূতাবাসের তরফ থেকে আমার হাতে তুলে দেওয়া হল ভারতের জাতীয় পতাকা। আমি গর্বের সঙ্গে সেই পতাকা নিয়ে পায়ে হেঁটে জাপানের পার্লামেন্টে তুলে ধরলাম। ইন্দো বানজাই ।” একথাও বলেন তিনি। আর এই ‘ইন্দো বানজাই’শব্দের মানেও বুঝিয়ে দিলেন নুপুর। তিনি জানান, ‘ইন্দো বানজাই’ মানে জয় ভারত।

ভারতের সঙ্গে জাপানের বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্কও অত্যন্ত ভাল। গতকালই জাপানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে ভারতের সর্বোচ্চ পদ্মবিভূষণে সম্মানিত করার কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্র।