নিউজপোল ডেস্ক: রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র বাঙালিদের মনের কথাটা ঠিকই ধরেছিলেন, ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে।’ অন্তত সেরকমটাই বলছে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইপসোস-এর সমীক্ষার ফলাফল। রিপোর্টে জানা গেছে, রোগা হওয়ার জন্যেও ভারতীয়রা আপোষ করতে নারাজ খাওয়াদাওয়ার সঙ্গে।

সমীক্ষা অনুসারে, মাত্র ৩৩ শতাংশ ভারতীয় বিশ্বাস করেন রোগা হওয়া খাওয়াদাওয়ার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, ৭৪ শতাংশ ভারতীয় জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেদের বর্তমান ওজন এবং গঠন নিয়ে সন্তুষ্ট। ৫৭ শতাংশ চেষ্টা করেছেন ডায়েট করে নিজেদের ওজন কমানোর, কিন্তু ৫৯ শতাংশের অভিজ্ঞতা বলছে, ডায়েট প্ল্যান বেশিরভাগ সময়েই ব্যর্থ হয়। তবে অংশগ্রহণকারী সমস্ত ভারতীয়দের মধ্যে ৬৭ শতাংশ শরীরচর্চায় বিশ্বাস করে। তাঁদের দাবি, তাঁরা ব্যয়াম এবং অন্যান্য শরীরচর্চা করে নেবেন যাতে করে খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও রকম আপোষ করতে না হয়। মজার ব্যাপার হল, বেশিরভাগ ভারতীয় কিন্তু বাড়িতে খেতেই পছন্দ করছেন আজকাল। রেস্তোরাঁর খাবার হলেও, বাইরে যাওয়ার তুলনায় অর্ডার করে বাড়িতে খাওয়ার প্রবণতাই বেশি। শুধু রান্না করা খাবারই নয়, ৪৭ শতাংশ ভারতীয় পছন্দ করে কাঁচা বাজার এবং আনাজও বাড়িতে বসেই পেয়ে যেতে।

ভারতীয়দের মধ্যে ৫৭ শতাংশ অবশ্য শুধুই অর্গ্যানিক ফুড অর্থাৎ জৈব খাদ্য খেতেই পছন্দ করেন বেশি। দেখা গেছে, ভারতে খুচরো খাদ্যের দাম মোটামুটি ভাবে স্থিতিশীল থাকে। সমীক্ষার ৪৭ শতাংশ ইঙ্গিত করছেন, আগামী দিনে খাদ্যের দামের উন্নতি হবে এই দেশে। তবে খাওয়াদাওয়াকে প্রাধান্য দেওয়া মানেই যে সঠিক অথবা সুষম আহার করেন ভারতীয়রা, সেটা নয়। ২০১৫-১৬ সালের জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা অনুসারে, সমগ্র ভারতীয় জনসংখ্যার অর্ধেক সুষম আহার করেন না। এঁদের মধ্যে বিশেষত মহিলাদের খাদ্যে থাকে না টাটকা ফল, সবুজ শাকসব্জি, ডাল অথবা মাংস জাতীয় কোনও খাদ্য। ২০০৫ থেকে ২০১৫ অবধি এই খাদ্যাভ্যাসের কোনও পরিবর্তন ঘটেনি।