নিউজপোল ডেস্ক: অহংকার? যা সুরেশ রায়না নামক এক প্লেয়ারের সঙ্গে বড্ড বেমানান। কারণ, রায়না এমনই এক ক্রিকেটার যাঁর সঙ্গে দল তো বটেই এমনকী বিপক্ষ দলের ক্রিকেটারদেরও বরাবরই সৌহার্দ্য বিনিময় করতে দেখা গিয়েছে। কখনও পাকিস্তান দলের কোনও এক সদস্যের জপতোর ফিতে বেঁধে দিয়েছেন তিনি। কখনও আবার বাউন্ডারি লাইনের বাইরে বসে জমাটি আড্ডা মেরেছেন বিপক্ষ দলের স্টার ক্রিকেটারের সঙ্গে। এহেন রায়না সাফল্যের সিঁড়িতে উঠে নিজেকে রাজা মনে করছেন? হঠাৎ রায়না সম্পর্কে কেনই বা এমন মন্তব্য করতে গেলেন চেন্নাই সুপার কিংসের মালিক এন শ্রীনিবাসন? আর এত সবের মাঝেই আবার খবর, যে রায়না আবার ২০২১ সালে আইপিএলে নিলামের জন্য নিজেকে মুক্ত করতে পারেন। সুরেশ নিজে এ বিষয়ে কোনও কথা বললেও সূত্রের খবর কিন্তু এমনটাই। আর ইয়েলো আর্মির ডেপুটি চলে যাওয়ার দলে যে বিকল্প কোনও ব্যবস্থা খুঁজতে গোত্তা খেতে হচ্ছে, সে কথা একপ্রকার পরিষ্কার। এখন রায়না এই নিয়ে কী বলেন, সেই দিকেই তাকিয়ে তাঁর ভক্ত থেকে শুরু করে ক্রিকেটমহল।

দুবাই গিয়ে চেন্নাই ক্যাম্পে যোগ দিয়েও সুরেশ রায়নার দেশে ফিরে আসায় বিস্তর বিতর্ক দানা বেঁধেছে। হুট করেই রায়নার ভারতে চলে আসার কারণ হিসেবে প্রথমে জানা গিয়েছিল ব্যক্তিগত সমস্যা। সুরেশ নিজে জানিয়েছিলেন যে, তাঁর কাছে সন্তানদের আগে আর কিছুই নেই। কারণ চেন্নাই দলের দুই প্লেয়ার-সহ ১২ জন সাপোর্ট স্টাফ আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাতে কিছুটা ভয় পেয়েই রায়না দেশে ফিরে এসেছিলেন বলে জানা গিয়েছিল। কিন্তু গতকাল সুরেশ রায়নার সম্পর্কে বোমা ফাটিয়েছেন চেন্নাই সুপার কিংসের মালিক এন শ্রীনিবাসন। বলেছেন, ‘সাফল্য আসলে কিছু সময়ে প্লেয়ারদের মাথায় চড়ে বসে!’

সূত্রের খবর, দুবাইতে হোটেলের বায়ো বাবল পরিবেশে দম বন্ধ হয়ে আসছে বলে দাবি করেছিলেন সুরেশ রায়না। অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির মতোই চেন্নাই সুপার কিংস কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যালকনি-সমেত একটি রুম দাবি করেছিলেন রায়না। এমনকী সূত্র মারফত এমনও জানা গিয়েছে যে, এই ব্যালকনি দাবিতে রায়নার সঙ্গে দলের অধিনায়ক ধোনির বাদানুবাদও হয়েছে। সেই ধোনির সঙ্গেই, যাঁর পাশে দাঁড়িয়ে একই দিনে অর্থাৎ ১৫ অগস্ট ২০২০-তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে অলবিদা জানিয়েছিলেন সুরেশ রায়না।

আর রায়না যে এমনই একটি ব্যালকনিযুক্ত রুম চেয়েছিলেন, সে কথা সাংবাদিকদের সামনে খোলসা করেছেন খোদ শ্রীনিবাসন। রায়নার এহেন আচরণে বেজায় ক্ষুব্ধ শ্রীনি। তাঁর কথায়, ‘ক্রিকেটারেরা কিছু সময়ে প্রাইমা ডোনার মতো ব্যবহার করে। পুরনো দিনের অভিনেতাদের মতোই রাগ দেখান ওঁরা। চেন্নাই সুপার কিংস সিনিয়র থেকে জুনিয়র সব প্লেয়ারদের সঙ্গেই পরিবারের মতো মেশে। আর সব সিনিয়রেরা দলকেও পরিবারের মতোই দেখে।’

রবিবার শ্রীনিবাসনের এহেন মন্তব্যের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন নেটাগরিকরা। চেন্নাই বস-কে তোপ দেগে কেউ বলেন, ‘রায়নার মত একজন অত বড় মাপের ক্রিকেটারকে টাকা নিয়ে খোঁটা দেওয়ার আগে দু’বার ভাবা উচিত ছিল শ্রীনিবাসনের।’ কেউ কেউ আবার এ-ও বলেছেন যে, ‘রায়না কখনই সাফল্যে ধরাকে সরা জ্ঞান করার মানুষ নন। রায়না চিরকালই দেশের কথা ভেবে ক্রিকেট খেলেছে। ওঁর একটা ইনিংসও নিজের জন্য খেলেনি। দলকে জেতানোই সারা ক্রিকেট জীবনে ওঁর মূল লক্ষ্য ছিল।’

এরপরই রায়নার বিরুদ্ধে তীর ছুঁড়ে দিয়ে শ্রীনিবাসন বলছেন, ‘আমার কথা হচ্ছে, তোমার যদি না পোষায়, তাহলে বেরিয়ে যেতেই পারো। আমি কাউকে এসব বিষয়ে জোরজবরদস্তি করি না। কিছু সময়ে সাফল্য প্লেয়ারদের মাথায় চড়ে বসে।’ এদিকে আবার রায়না চলে যেতেই দলের আর এক ক্রিকেটার শেন ওয়াটসন বলে বসেন যে, রায়না ছাড়া চেন্নাই দলটি অসম্পূর্ণ। এরপরই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন শ্রীনি। ধোনির সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানান তিনি। কে গেল আর কে এল, তাতে চেন্নাই সুপার কিংসের যে কিসসু যায় আসে না, সে কথাও পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন এন শ্রীনিবাসন।

তাঁর কথায়, ‘ধোনির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ও আমাকে আশ্বাস দিয়ে বলেছে যে, চেন্নাই সুপার কিংসের কোনও সমস্যা নেই। সব ঠিকাছে। জুম কলে দলের সব প্লেয়ারদের সঙ্গেও কথা বলেছে ধোনি। আর সবাইকেই নিরাপদে থাকতে অনুরোধ করেছে ও।’ এখানেই শেষ নয়। সুরেশ রায়নাকে টাকার খোঁটাও দিয়েছেন এন শ্রীনিবাসন। বলেছেন, ‘সিজনের খেলা এখনও শুরু হয়নি। আর দেশে ফিরে গিয়ে রায়না বুঝবে যে, ও আসলে কী মিস করল। বিপুল পরিমাণ টাকা। প্রত্যেক সিজনে ১১ কোটি টাকা ও হারাতে চলেছে।’