নিউজপোল ডেস্ক:‌ ঠিক কী কারণে ঘরে ঢুকে নৃশংসভাবে খুন করা হল শিক্ষক আর তাঁর সন্তানসম্ভবা স্ত্রী, ছেলেকে?‌ তদন্ত এগোলেও জট কিন্তু এখনই কাটছে না। রাজ্যপাল বা বিজেপি ‘‌অসহিষ্ণুতা’‌–কে দায়ী করলেও পুলিশি তদন্ত অন্য কথা বলছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা ছিল, জিয়াগঞ্জের বাড়ির জন্য কোনও পরিচিতের হাতে হয়তো সপরিবারে খুন হয়েছেন বন্ধুপ্রকাশ পাল। কিন্তু ঘর থেকে উদ্ধার ডায়েরির জন্য মোড় ঘুরল তদন্তের। ডায়েরির বয়ানে স্পষ্ট, শিক্ষক আর তাঁর স্ত্রীর সম্পর্ক ক্রমেই খারাপ হচ্ছিল। সেই সুযোগে কি স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে ঢুকে পড়েছিল তৃতীয় কেউ?‌
ডায়েরিটি সম্ভবত লিখেছিলেন শিক্ষকের স্ত্রী বিউটি। তাতে ফুটে উঠেছে অশান্ত দাম্পত্যের ছবি। মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে এই ভয়ঙ্কর খুনের মোটিভ কি তবে ডায়েরিতেই লুকিয়ে? বেশ কিছু চিঠিও পেয়েছে পুলিশ। অনুমান, সেগুলো বিউটির লেখা। সত্য জানতে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। চিঠি থেকেই স্পষ্ট, গত কয়েক মাসে দু’‌জনের সম্পর্ক তলানিতে এসে পৌঁছেছিল। তাহলে কী অন্য কেউ এসেছিল স্বামী বা স্ত্রীর জীবনে? তারই জেরে এই নৃশংস খুনের ঘটনা? মঙ্গলবার ওই দম্পতির বাড়ি থেকে কালো জামা–প্যান্ট পরা একটি ছেলেকে পালাতে দেখেন প্রতিবেশী আর দুধ বিক্রেতা। তবে সেই ছেলেটিই কি ছিল এই তৃতীয় ব্যক্তি?‌ অজ্ঞাতপরিচয় সেই যুবকের স্কেচ আঁকানো হচ্ছে।
দশমীর সকালে জিয়াগঞ্জের লেবুবাগানের বাড়িতে পাল দম্পতির সঙ্গে তাঁদের পাঁচ বছরের ছেলে আর্যর গলাকাটা দেহ উদ্ধার হয়। গত দু’‌বছর এই বাড়িতেই ছিলেন তাঁরা। আগে থাকতেন সাগরদিঘির সাহাপুরে। পুলিশের দাবি, সাগরদিঘিতে টাকা-পয়সা, জমি নিয়ে স্থানীয় জমি মাফিয়াদের সঙ্গে ঝামেলা হওয়ায় জিয়াগঞ্জে চলে আসেন বন্ধুপ্রকাশ। সেই জমি মাফিয়াদের খোঁজ করছে পুলিশ। কথা বলা হচ্ছে আত্মীয়দের সঙ্গে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে বিউটির মোবাইলের কললিস্ট। পুলিশ নিশ্চিত, পরিচিত কেউ এই ঘটনায় জড়িত। এদিকে, এখনও খুনি ধরা না পড়ায় জিয়াগঞ্জ থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান নিহত শিক্ষকের সহকর্মীরা। রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের অভিযোগ, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। সেজন্যই একের পর এক বিজেপি ও সঙ্ঘ কর্মী খুন হচ্ছেন। উল্লেখ্য, বন্ধুপ্রকাশ আরএসএস কর্মী ছিলেন। কিছু ক্ষণের মধ্যেই পাল্টা বিবৃতি দিয়ে ‘সীমার’ মধ্যে থাকার কথা রাজ্যপালকে মনে করিয়ে দেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।