নিউজপোল ডেস্ক: ড. এপিজে আবদুল কালাম আমাদের দেশের অন্যতম বরেণ্য এবং সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শিখিয়ে গেছেন জীবনে চলার পথে যত বাধা-বিপত্তি আসুক না কেন, আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বর্ণ-শ্রেণি-জাত-পাতের বৈষম্যে তিনি কখনও বিশ্বাসী ছিলেন না। তবে খুব অল্প বয়সে তিনি তাঁর ধর্মের কারণে অন্য আসনে বসতে বাধ্য হয়েছিলেন।

তিনি তাঁর আত্মজীবনী, ‘মাই লাইফ: অ্যান ইলাস্ট্রেটেড অটোবায়োগ্রাফি’-তে তাঁর এই অভিজ্ঞতার কথা লিখেছিলেন। তিনি যখন রামেশ্বরম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তেন, সেই সময় তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল এক হিন্দু ব্রাক্ষ্মণ, রামানাধন শাস্ত্রীর। তাঁরা একই সঙ্গে বসে পড়াশোনা, খেলাধূলা করতেন।

বিদ্যালয়ে অঙ্কের নতুন শিক্ষক আসলে সমস্যা শুরু হয়। তিনি দুই ছাত্রের পোশাকের মধ্যে মিল না পেয়ে, কালামকে অন্যত্র বসার আদেশ করেন। কালামের ভাষায়, ‘আমি খুব অবাক হয়েছিলাম এবং মন ভেঙে গিয়েছিল। আমি প্রচণ্ড কেঁদেছিলাম, কারণ আমাকে একরকম বাধ্য করা হয়েছিল বন্ধুর পাশ না বসতে। কে জানত যে একজন হিন্দু বালক এবং মুসলিম বালক একসঙ্গে বসতে পারে না!’

এই ঘটনার পর রামানাধনের পিতা, যিনি পেশায় রামেশ্বরমের শিব মন্দিরের পুরোহিত ছিলেন, কালামের পিতার সঙ্গে গিয়ে কথা বলেন এ বিষয়ে। ওই শিক্ষকের সঙ্গে দুজনে গিয়ে সরাসরি কথা বলেন এবং জানান যে শিশুদের একসঙ্গে বড় হওয়া, পড়াশোনা করা, খেলাধূলার মাধ্যমে মজা করাটা উচিত। তাদের মধ্যে ধর্মের বিভাজন কাম্য নয়। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি যেন এমনটা করে শিশুমনকে বিচলিত না করেন।

শিক্ষক এই ঘটনার পর কালামকে আবার তাঁর পুরনো জায়গায় ফিরিয়ে আনেন। কালাম আবার তাঁর প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে বসতে শুরু করেন। তাঁর আত্মজীবনীর দ্বিতীয় অধ্যায়ে এই ঘটনার উল্লেখ আছে। এই বইতে কালাম তাঁর জীবনের সমস্ত ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিয়েছেন।