কান্তা দেবী করনানি। বয়স মাত্র ৮৭ বছর।

নিউজপোল ডেস্ক: লন্ডন থেকে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে আটকে পড়েছিলেন কান্তা দেবী করনানি। বয়স মাত্র ৮৭ বছর। জানুয়ারি মাসে তিনি কলকাতায় আসেন। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি চুপ করে বসে থাকতে পারেননি। আলিপুরের যে অ্যাপার্টমেন্টে তিনি থাকতেন সেখান থেকেই প্রতিদিন একা হাতে রান্না করে খাইয়েছেন লকডাউনে যে সব মানুষ ত্রাণ কর্মী হিসেবে কাজ করছেন তাঁদের। পঞ্জাবের ফিরোজপুরে তাঁর জন্ম, এরপর বিবাহসূত্রে আসেন কলকাতায়। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে কলকাতায় আর ছোটজনের চেন্নাইতে। ১৯৬২-তে পাকাপাকি ভাবে স্বামীর সঙ্গে লন্ডনে চলে যান। সেখানেই থাকেন এখন ছেলেদের সঙ্গে।

তাঁর কথায়, ‘এই মহামারীতে প্রচুর মানুষের জীবন বিপন্ন। আমি মাঠে ময়দানে নেমে কাজ করতে অসমর্থ। তাই চেয়েছিলাম এমন কিছু ভাবে মানুষকে সাহায্য করি, যাঁরা বাকিদের সাহায্য করছেন’। আর তাই চানা মশালা, কালি ডাল, পকোড়া, আলুর দম, পনির কচুরি, পনির রোল, ভেজিটেবল বিরিয়ানি, পাস্তা, লাজানিয়া, ব্রেড রোল, বাদাম হালুয়া, আমের ক্ষীর ইত্যাদি বানিয়ে তিনি খাওয়াতেন ত্রাণ কর্মীদের। শুধু তাই নয়, উম্পুনের পর মোটা অঙ্কের আর্থিক সাহায্য পাঠিয়েছেন সুন্দরবনের জন্যও। এছাড়াও ত্রাণসামগ্রী দিয়েছেন।

লন্ডনে ফিরে যাওয়ার আগে করনানি জানালেন, ‘চেন্নাই সফর এবং লন্ডনের টিকিট বাতিল হয়ে যাওয়ার পর আমি ভাবছিলাম আমি কীভাবে সময় কাটাব। উম্পুনের পর মাঠে নেমে কাজ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে তা সম্ভব নয়। কিন্তু কাজ ছাড়া বাড়িতে আমি বসে থাকতে পারব না। তখন আমার যোগাযোগ হয় এরকম একটি দলের সঙ্গে, যাঁরা মাঠে-ময়দানে কাজ করছেন। তখন আমি ঠিক করলাম আমি ওঁদেরই রান্না করে যদি খাওয়াতে পারি তাহলে হয়তো খানিক সাহায্য করতে পারব। আর কিছুটা টাকা দিয়ে যদি সাহায্য করতে পারি’।

এই বছর শীতে আবার দেশে আসার সম্ভাবনা কম। তবে পরের বছর আবারও কলকাতায় আসতে চান তিনি। যোগ দিতে চান ত্রাণের কাজে। একবার ঘুরেও দেখে আসতে চান উম্পুন বিধ্বস্ত সুন্দরবনকে। গত রবিবার তিনি অবশেষে চেন্নাই-দিল্লি হয়ে লন্ডনের ফ্লাইট ধরেছেন। কিন্তু তিনি লন্ডন ফেরায় মন খারাপ জয়দীপ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর টিমের। জয়দীপ ও তাঁর দলের সদস্যদের এতদিন রান্না করে খাইয়েছেন ৮৭ বছরের করনানি। মিস করবেন তাঁর হাতের রান্না। এছাড়াও এই বয়সে তাঁর অসীম ইচ্ছাশক্তি আর এনার্জিতে মুগ্ধ জয়দীপের টিমের সদস্যেরা।