নিউজপোল ডেস্ক:‌ ১০০ দিন পেরিয়েছে। কাশ্মীর সেই কাশ্মীরেই। এখনও অবরুদ্ধ জনজীবন। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার লক্ষণ নেই। ফলে পরিস্থিতি যে স্বাভাবিক হবে না, বলাই বাহুল্য। ব্যবসা বাণিজ্য প্রায় বন্ধ। রফতানিও হচ্ছে না। ফলে উপত্যকার ব্যবসায়ীদের মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা।


৫ আগস্ট কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয় কেন্দ্র সরকার। ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে। যুক্তি ছিল, এই বিশেষ ক্ষমতা রদ করলেই বাকি রাজ্যের মতো উন্নয়ন হবে কাশ্মীরে। তিন মাস পেরিয়ে গেলেও উন্নয়ন কারও চোখে পড়েনি। উল্টে লাটে উঠেছে পর্যটন শিল্প। অশান্তি, হিংসার জেরে এক জন পর্যটকও পা রাখেনি কাশ্মীরে। বাগানেই পচে গেছে আপেল। রফতানি করা যায়নি। গালিচা এবং শাল তৈরিও প্রায় বন্ধ। কারণ তা নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করতে যেতেই পারেননি ব্যবসায়ীরা।
কাশ্মীর চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (‌কেসিসিআই)‌ বলছে, এই তিন মাসে কাশ্মীরি ব্যবসায়ীদের মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। কেসিসিআই–এর সভাপতি শেখ আশিক হুসেন বলছেন, এটা একটা প্রাথমিক হিসেব। আসল ক্ষতির পরিমাণ এর থেকে অনেক বেশি। এই ক্ষতির পরিমাপের জন্য আদলতকে বিশেষ কমিটি গঠনেরও অনুরোধ জানিয়েছে সমিতি। কেসিসিআই–এর সহ সভাপতি নাসির খান বলেন, বিক্ষোভকারীদের ভয়ে দোকানই খুলতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।
বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলো গোলযোগ বাধাতে পারে আশঙ্কায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে কাশ্মীরে। পর্যটকদেরও যেতে বারণ করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট। সে কারণে মার খাচ্ছে ব্যবসা। ৫০ শতাংশ কমেছে রফতানি। রফতানিকারক সংস্থাগুলো গ্রহীতাদের সঙ্গে যোগাযোগই করতে পারছে না। নাসির খানের দাবি, এই ক্ষতির দায় জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন নিক। নিরাপত্তা বাহিনী অপসারণের দাবিও করেছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সেই নিয়ে কারও হেলদোল নেই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা কড়া হওয়াতে পাথর ছোড়ার ঘটনা কমেছে। ৫ আগস্ট থেকে ১৫ নভেম্বর পাথর ছোড়ার জন্য ৭৬৫ জন গ্রেফতার হয়েছেন। সেথানে বছরের শুরু থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই ঘটনায় মাত্র ৩৬১ জন ধৃত।