নিউজপোল ডেস্ক: মানুষ হিসাবে প্রত্যকের কিছু দায়িত্ব থাকে সমাজের প্রতি। সেই দায়বদ্ধতা থেকে খাবারের ব্যাঙ্ক তৈরি করলেন ৬৬ বয়সি কেরলের বাসিন্দা আবদুল খদার এবং তাঁর স্ত্রী সুনিখা। প্রতিদিন দুপুরে বাড়ির বারান্দায় কাচের কাউন্টারে খাবারের প্যাকেট রেখে দেন খদার দম্পতি। ক্ষুধার্তরা
এই খাবার বিনামূল্যে নিতে পারেন। যে সমস্ত লোকেরা বসে খেতে ইচ্ছুক তাদের জন্য একটি টেবিল এবং চেয়ার রাখা থাকে। কেরলের ত্রিশুরের ইরজিলিকুদা রাস্তার পাশে তাঁদের বাড়িতে খাবারের কাউন্টারটি তৈরি করা হয়েছে। আবদুল খদার এবং তাঁর স্ত্রী সুনিথার গান্ধীবাদী।
খাদার ৩৮ বছর পর ওমান থেকে ফিরে এসে গত বছর ২ অক্টোবর এই কাজ শুরু করেন।
খেতে পেতেন না। খদার ১৯৭৯ সালে কাজের সন্ধানে ওমানে চলে যান।
তিনি বলেছেন, ‘‌খাবার প্রত্যেকেরই পাওয়া উচিৎ। কেউ যদি অভাবের কারণে ভিক্ষা করে সেটা আমাদের ব্যর্থতা। এমন একটা ব্যবস্থা করতে হবে যেখানে মানুষ বিনামূল্যে খাবার পাবেন। তাই ফিরে এসে এই খাবারের ব্যাঙ্কটি খুলি’। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বারান্দায় জায়গা ছিল, তাই আমরা সেখানে একটি কাউন্টার তৈরি করি। যেখানে রোদ বৃষ্টি থেকে খাবার সুরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি রয়েছে পানীয় জলের ব্যবস্থা।’
তাঁর স্ত্রী সুনিখা তাঁদের পরিচারকদের সহায়তায় খাবার তৈরি করেন। বেশিরভাগ দিন মেনুতে থাকে ভাত, তরকারি এবং আচার। কারণ এগুলি স্বাস্থ্যকর। প্যাকেটগুলির অপব্যবহার যাতে না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য খাদার ব্যাঙ্কের চারপাশে নজরদারি ক্যামেরা বসিয়েছেন। প্রতিদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় ১০টি প্যাকেট রাখা হয়। তারপর প্রয়োজন হলে আরও প্যাকেট রাখা হয়। গড়ে নিয়মিত ১৫ জন খাবার খান।