নিউজপোল ডেস্ক:‌ বাকি সবার মতো মিশতে পারে না। ঝকঝকে কথা বলতে পারে না। একই কাজ বারবার করে যায়। সেজন্য স্কুলে বারবার ঠাট্টা পাত্র হয়েছে সে। সে কারণে ছেড়েছে স্কুল। ৮ বছরের সেই আধারা পেরেজই কিন্তু বুদ্ধিমত্তায় পিছনে ফেলেছে অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, স্টিফেন হকিংসের মতো বিজ্ঞানীদের। তার বুদ্ধ্যঙ্ক (‌আইকিউ)‌ ১৬২। যেখানে আইনস্টাইন আর হকিংসের ছিল ১৬০।


পেরেজের জন্ম মেক্সিকো সিটিতে। ছোটবেলা থেকেই একটু অন্য রকম। কারও সঙ্গে মিশতে পারত না। কথাও স্পষ্ট নয়। পেরেজের তখন তিন বছর বয়স। চিকিৎসকরা জানান, অ্যাপারজার’‌স সিনড্রোম রয়েছে তাঁর। অটিজ্‌ম স্পেক্ট্রাম ডিজঅর্ডারের মধ্যে একটি। এই সিনড্রোমে শিশুরা সামাজিকভাবে মেলামেশা করতে পারে না। বিকাশ বাধা পায়। তবে অ্যাপারজার’‌স সিনড্রোমে আক্রান্তরা অনেক সময়ই কোনও একটি বিষয়ে দারুণ ভাল হয়। যেমন কেউ ভাল পিয়ানো বাজাতে পারে। কেউ ভাল গান গাইতে পারে। কেউ আবার অঙ্কে এগিয়ে।


পেরেজের এই সমস্যাকে স্কুলের বাকি শিশুরা ভালভাবে নেয়নি। ঠাট্টা করত। তার সঙ্গে কেউ মিশত না। মা নাল্লেলি স্যাঞ্চেজ দেখলেন, মেয়ে স্কুলে যেতে চায় না। গেলে ক্লাস চলাকালীন ঘুমিয়ে পড়ে। কেমন যেন অবসাদে ভুগছে। এসব দেখে মেয়েকে থেরাপিস্টের কাছে নিয়ে যান। সেখানেই দেখা যায়, আধারার আইকিউ ১৬২। আইনস্টাইনের থেকেও বেশি। পাঁচ বছরে প্রাথমিক স্কুলের পড়া শেষ করে আধারা। আট বছরে হাই স্কুল পাশ করে। এখন অনলাইনে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করছে। নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে দু’‌টো বইও লিখে ফেলেছে। আপাতত বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের আবেগ, অনুভূতি ধরার জন্য বিশেষ ধরনের ব্রেসলেট তৈরি করছে। এই ব্রেসলেট শিশুদের আবেগ সম্পর্কে অভিভাবকদের আগাম সতর্ক করবে। পাশাপাশি ইংরেজিটাও রপ্ত করছে আট বছরের মেয়ে। আমেরিকার অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে চায়। সেজন্যই ইংরেজি শেখা। আশা, একদিন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করবে সে।