তিনি না থাকলেও, তাঁর গান থেকে যাবে চিরদিন। অনুরাগীদের মনে তিনি থেকে যাবেন তাঁর সুরের মধ্যে দিয়েই। কেকের (Singer KK) মতো শিল্পীদের মৃত্যু হয় না। আর তাই তো গায়কের শেষ গান মুক্তির জন্য এখন অধীর আগ্রহে বসে আছেন তাঁর অনুরাগীরা। উইকিপিডিয়া থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সলমন খান ও ক্যাটরিনা কাইফের নতুন ছবি ‘টাইগার থ্রি’ ছবির জন্যই শেষবার গানের রেকর্ডিং করেছিলেন কেকে। খবর অনুয়ায়ী, কেকের গাওয়া গানেই চুটিয়ে রোম্যান্স করবেন ক্যাট ও সলমন। ছবিটি মুক্তি পাবে ২০২৩ সালের ইদে।

সলমন খানের (Salman Khan) লিপে ‘হাম দিল দে চুকে’ সনম ছবিতে ‘তড়প তড়প’ গানটিই বড় ব্রেক ছিল কেকের  কাছে। তারপর ‘তেরে নাম’, ‘ও জানা’, ‘রেডি’ ছবির ‘হামকো পেয়ার হুয়া’, ‘এক থা টাইগার’, ‘বজরঙ্গি ভাইজান’, ‘টিউবলাইট’ ছবিতেই সলমনের লিপে শোনা গিয়েছিল কেকের গান। জীবনের শেষ রেকর্ডিংও সলমনের জন্যই করলেন তিনি।

১৯৬৮ সালে দিল্লিতে জন্ম কেকে’র। শুরুটা খুব মসৃণ ছিল না তাঁর। বলিউডে প্লেব্যাকের সুযোগ মোটেই সহজে আসেনি। হিন্দি সিনেমায় গান গাওয়ার আগে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বিজ্ঞাপনের জিঙ্গল গেয়েছেন। একসময় মার্কেটিংয়ের কাজও সামলেছেন। প্লেব্যাকের প্রথম সুযোগ বিশাল ভরদ্বাজের সঙ্গে। ‘ছোড় আয়ে হাম উও গঁলিয়া’। সেখানে অবশ্য অনেকের সঙ্গে গলা মেলানো।

প্রকৃত অর্থে তাঁর জয়যাত্রা শুরু হয় ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ ছবির ‘তড়প তড়প কে’ গানের মাধ্যমে। ওটাই কেকে’র প্রথম সোলো প্লেব্যাক। আর তাতেই কী অব্যর্থ লক্ষ্যভেদ! ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয় ‘পল’ অ্যালবামটিও। আটের দশকে যাঁদের জন্ম, তাঁদের কৈশোর অথবা তারুণ্যের প্রথম দিকের সময় সেটা। ‘পল’ গানটি ছাড়াও ‘ইয়ারো’ গানটি সেই সময় স্কুলের টিফিনবেলা থেকে কলেজ ক্যান্টিনে একরকম লুপে গাওয়া হত। প্রেম, বিষাদ, বন্ধুত্বের আশ্চর্য মিশেলে এই গান সহজেই স্পর্শ করেছিল তরুণ, তরুণীদের হৃদয়। এরপর ক্রমেই দীর্ঘ হয়েছে কেকে’র গাওয়া স্মরণীয় গানের সংখ্যা। ‘রোগ’ (২০০৫), ‘গ্যাংস্টার’ (২০০৬), ‘উও লমহে’ (২০০৬), ‘ওম শান্তি ওম’ (২০০৭), ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’ (২০০৭) থেকে শুরু করে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ (২০১৪),’বজরঙ্গি ভাইজান’ (২০১৫)… তালিকা বিরাট। এই সব ছবিতে একাধিক হোক বা স্রেফ একটি গান- কেকে’কে তাঁর কবজির মোচড়ে বল ফেলেছেন গ্যালারিতেই।