দীর্ঘ কয়েক দশক জুড়ে বারবার সুন্দরবন সংরক্ষণের জন্য আইনি পদক্ষেপ দাবি করে আসছিলেন পরিবেশকর্মীরা। এবার সেই আবেদনে সাড়া দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

১২ মার্চ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি বি রাধাকৃষ্ণন এবং বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায় যে রায় দিয়েছেন, তা সত্যিই ঐতিহাসিক। মানুষের নানা কর্মকান্ডে ইতিমধ্যে বিপন্ন সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ। অবিলম্বে তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করা গেলে হারিয়ে যেতে পারে ভারতের বৃহত্তম বাদাবন। আর তাই এবার সুন্দরবন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ, টাইগার রিজার্ভ এবং রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকায় মানুষের প্রায় সবধরণের কর্মকাণ্ডের উপরেই নিষেধাজ্ঞা জারি করল আদালত। একমাত্র সুন্দরবন বনবিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে কর্মকাণ্ড চলতে পারে।

তবে এখানেই বাস্তব সমস্যার কথা বলছেন জয়দীপ কুণ্ডু। তাঁর কথায়, “বায়োস্ফিয়ার মানে যেখানে বন্যপ্রাণ এবং মানুষের সহাবস্থান হবে। এবং সেই সহাবস্থান হবে একে অপরের পরিপূরক হিসাবে। অনুমতি নিয়ে বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভে মাছ ধরতে যান মৎসজীবীরা, কেউ কাঁকড়া মারতে যান, মধু আনতে যান কেউ। সুন্দরবনের স্থানীয় মানুষদের জীবিকার প্রশ্নটিও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। কারণ তাঁদের বিকল্প জীবিকার সন্ধান আজও দেওয়া যায়নি।” শুধু যে স্থানীয় মানুষদের জীবিকার প্রশ্ন, তাই নয়। স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে নিতে না পারলে বনভূমি সংরক্ষণের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে বলেই মনে করছেন তিনি। “যৌথ বন পরিচালন ব্যবস্থায় সারা ভারতের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ একটা দৃষ্টান্ত। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বনদপ্তর স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে নিয়ে কাজটা করে। সেখানে বনদপ্তর সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের উন্নতিরও চেষ্টা করে। বিনিময়ে সাধারণ মানুষ তাঁদের সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার কাজে হাত লাগান।” এই ব্যবস্থাই বনভূমি সংরক্ষণের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদ্ধতি বলেই মনে করছেন তিনি।

তবে হাইকোর্ট চূড়ান্ত রায়ের আগে বনদপ্তরের বক্তব্যও শুনতে চেয়েছে। আগামী ২৫ মার্চের মধ্যেই শুনানি হবে। আশা করা যায় সেখানে বনদপ্তর আদালতকে বুঝিয়ে বলবেন স্থানীয় মানুষদের ভূমিকার কথা। আর আলোচনার মাধ্যমেই উঠে আসবে সুন্দরবন সংরক্ষণের রূপরেখা। “সুন্দরবনকে বাঁচাতে না পারলে নাগরিক জীবন কতটা বিপন্ন হতে পারে, তার সংকেত তো আমফানই দিয়েছে।” জয়দীপ বাবুর কথাই বুঝিয়ে দেয়, আদালতের এই রায় কতটা প্রয়োজনীয় ছিল।