তমাল পাল:‌ দমদমের সূর্য সেন পল্লি। পাড়ায় খ্রিস্টানদের বাসই বেশি। তাই সবাই একে খ্রিস্টান পাড়া বলেই চেনেন। এই সূর্য সেন পল্লির খ্রিস্টানরা এককালে হিন্দু ছিলেন। আজ ধর্মান্তরিত। ধর্ম ছেড়েছেন, কিন্তু দুর্গাপুজো ছাড়তে পারেননি। তাই আজও এই পাড়ায় হইহই করে দুর্গাপুজো করেন খ্রিস্টানরা। গুটিকয় হিন্দু বাঙালি পরিবারও পুজোয় মাতে। তবে পুজোর গুরু দায়িত্ব পালন করেন খ্রিস্টানরাই।
৪১ বছর ধরে এই পুজো করছেন তাঁরা। বিধি মেনে পঞ্চমীর সন্ধেবেলা বোধন দিয়ে এখানে শুরু হয়েছে দুর্গাপুজো। হতে পারেন উদ্যোক্তারা খ্রিস্টান, তা বলে বিধিতে কোনও ফাঁক পড়ে না সূর্য সেন পল্লির পুজোয়। সমস্ত বিধি মেনে নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করেন তাঁরা। বোধন থেকে সপ্তমীর ভোরে কলাবউ স্নান বা অষ্টমীর ভোগ— সবেতেই কোমর বেঁধে অংশ নেন পাড়ার মহিলারা। প্রসাদের ফল হোক বা ভোগের সবজি— নিজেরাই কাটেন। রাঁধেনও মিলেমিশে। জানালেন পুজোর সভাপতি বাবলু মণ্ডল। পুজোর প্রতিটি কাজ নিজের হাতেই করেন।


খ্রিস্টানরা পৌত্তলিকতায় বিশ্বাস করেন না। মূর্তিপুজো করেন না। কিন্তু সূর্য সেন পল্লির বাসিন্দারা কিছুটা হলেও ব্যাতিক্রম। কারণ তাঁরা দুর্গাপুজোটাকে ধর্মাচরণ হিসেবে দেখেন না। আনন্দোৎসব হিসেবে দেখেন। এর মাঝে তাই কোনো ধর্মকে আনতে চান না। চান, চার দিনের নিখাদ আনন্দ। দেশে সংখ্যালঘু নিগ্রহ এখন আকছার ঘটছে। অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে ভিন সম্প্রদায়ের উৎসবে সামিল হওয়ার ঘটনা সত্যিই দৃষ্টান্তমূলক।