নিউজপোল ডেস্ক: আজকের প্রযুক্তি নির্ভর পৃথিবীতে, যোগাযোগের মাধ্যম যত বেড়েছে, তত কমে গেছে মন খুলে কথা বলা। বাঙালির চিরাচরিত আড্ডার অভ্যেসও লুপ্তপ্রায়। মনের কথা, নিজের সমস্যার কথা আমরা সাধারণত নিজের ভেতরেই চেপে রাখি। সকলের সামনে মুখ খুলতে একরাশ ভয়, সমাজের তির্যক চাহনি আমাদের মুখ টিপে ধরে। ঠিক সেই ফাঁকটুকু ভরানোর উদ্যোগেই সৌভিক বিশ্বাসের ‘টি টকার্স’ এবং অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র এক বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন গোলপার্কের ‘ফার্স্ট ফ্ল্যাশ’ ক্যাফেতে।

গত রবিবার ১৮ আগস্ট হয় এই অনুষ্ঠান। শ্রীলেখার নিজের কথায়, ‘‌এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষকে মন খুলে নিজের কথা বলতে উদ্বুদ্ধ করা।’‌ নিজের জীবনে বহুবার আঘাত খেয়েছেন তিনি, ধাক্কা খেয়ে ভেঙে গেছে মন। কিন্তু সেসবে ভেঙে পড়লেও ফের উঠে দাঁড়িয়েছেন শ্রীলেখা। দিনের শেষে তিনি আদ্যন্ত ইতিবাচক একজন মানুষ। নিজের এই হার না মানা মনোভাবকেই চারপাশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে সামনে দেখে হতবাক হওয়া অথবা সেলফি তোলার আবদারের পর যেটা পড়ে থাকে, সেটা হল মানুষের মধ্যে মনের ভাবের আদানপ্রদান। সেদিনের অনুষ্ঠানকে আদানপ্রদানকারী অথবা ‘ইন্টরঅ্যাকটিভ সেশন’ বলছেন শ্রীলেখা। নিজেদের সমস্যা কার্ডে লিখে জানানোর ব্যবস্থা ছিল এখানে। সেই নিয়ে খোলামনে আলোচনাও হয়, জানালেন অভিনেত্রী।

সৌভিক বিশ্বাসের উদ্যোগে ‘টি টকার্স’ এর আগেও এরকম ধরনের আড্ডা বৈঠকের ব্যবস্থা করেছে। তবে শ্রীলেখা মিত্র যুক্ত হয়েছেন এই প্রথমবার। এই বৈঠকের আর একটি অভিনব দিক হল, সমগ্র সেশনের শেষে সবাই পরস্পরের হাত ধরে অঙ্গীকার করা, যে সেদিন থেকেই তাঁরা পাশের মানুষের পাশে থাকবেন। সেটা বন্ধুবান্ধব হোক অথবা স্বল্প পরিচিত কোনও প্রতিবেশি। কোনও মানুষের জীবনে অন্তত নিজেদের অবদান রেখে যাবেন তাঁরা। এরকম প্রকল্প এবং উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত থাকতে তাঁর নিজের সবসময়েই ভাল লাগে। নিজের সাধ্যমতো যদি এ ধরনের কাজ করে মানুষের উপকার করা যায়, সেটার থেকে ভাল আর কিছুই হতে পারে না বলে মত তাঁর। তিনি মন থেকে চান, সকলে সত্যিই খুব ভাল থাকুক।