নিউজপোল ডেস্ক: শমন নিয়ে আসেন যমরাজ এবং সমন পাঠায় আদালত। কিন্তু এবার সেই শমন পাঠানো যমরাজকেই সমন পাঠাক আদালত, এমন আবেদন জমা পড়েছে আদালতে! কারণ সাজার মেয়াদ ভোগ করার আগেই মৃত্যু হয়ে গেছে দোষীদের।

বিশ্বাস করুন, কলকাতা হাইকোর্টেই এমন ঘটনা ঘটেছে।

উত্তর ২৪ পরগনার গরুলিয়া এলাকায় ১৯৮৪ সালে সমর চৌধুরি এবং তাঁর দুই ছেলে প্রদীপ এবং ঈশ্বরের হাতে প্রহৃত হয়ে মৃত্যু হয় এক ব্যক্তির। তিন বছর পর আলিপুর আদালত তিন অভিযুক্তকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডের সাজা শোনায়। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে যায় সমর এবং তাঁর দুই ছেলে। হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করে সাজা আটকে দেয়। এরপর ১৯৯৩-এ প্রদীপ এবং ২০১০-এ সমরের মৃত্যু হয়। তা ছাড়া, অভিযুক্ত পক্ষের উকিল ২০০৬ সালে বিচারক পদে উন্নীত হন। উকিল না থাকায় আদালতকে দু’জনের মৃত্যুর খবর দেওয়া যায়নি। এদিকে ২০১৬ সালে নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তকেই সঠিক রায় দেয় হাইকোর্ট।

রায়দানের পর সমর এবং প্রদীপের পরিবারকে লিখিতভাবে ক্ষমাপ্রার্থনা করতে হয়, কারণ তাঁরা আদালতকে মৃত্যুর খবর দেননি। এমতাবস্থায় সমরের ছেলে এবং প্রদীপের স্ত্রী হাইকোর্টে আবেদন করেন যে যমরাজকে সমন পাঠানো হোক। ওই দুই মৃতকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে দিতে যমরাজকে যেন আদেশ পাঠায় কলকাতা হাইকোর্ট, দাবি এমনটাই। যাতে তাঁরা বাকি সাজা ভোগ করতে পারে। আর যদি যমরাজ তা না করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার দায়ে মামলা করা হোক। কী বলবেন, ঠিক যেন সিনেমার গল্প।